• ‘মৃত্যুফাঁদ’ দমদম রোডে রোজই দুর্ঘটনা
    বর্তমান | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল দশা। অভিযোগ, দমদম রোডের হাল লজ্জা দিচ্ছে প্রত্যন্ত কোনো গ্রামের মেঠো রাস্তাকেও। সামান্য বৃষ্টিতে একপ্রকার খালের মতো হয়ে যাচ্ছে এই জনবহুল রাস্তা। খানাখন্দে ভর্তি। পথ দুর্ঘটনা প্রায় নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

    একবছর পার হয়ে গিয়েছে কিন্তু ভূগর্ভস্থ নিকাশির কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। তা সেষ করে দমদম রোড কবে ঠিক হবে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কিন্তু কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না প্রশাসন। দ্রুত মেরামতের দাবিতে পূর্তদপ্তরে প্রতিদিন জমা পড়ছে আবেদনের পাহাড়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রাস্তার কাজ করছে কলকাতা পুরসভা। তারাই বিষয়টি সম্পর্কে বলতে পারবে। পুরসভা বর্ষার পর কাজ সম্পূর্ণ করার আশ্বাস দিয়েছে।

    দমদম স্টেশন রোড, রাজাবাগান, সবজিবাগান, সেভেন ট্যাঙ্কস, সমর সরণি, এস কে শেঠ লেন, দমদম রোড, কলকাতা পুরসভা এইসব এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে দীর্ঘদিন জল জমছে। সমস্যায় জেরবার শহরবাসী। ২০২৫ সালে কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে প্রায় ২৮ কোটি টাকা খরচে নয়া ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। দমদম রোডের পাশাপাশি দমদম স্টেশন রোড ও অলিগলি খুঁড়ে কাজ শুরু হয়। ফলে নিত্য যানজট, ধুলো, বেহাল রাস্তার দুর্ভোগে নাস্তানাবুদ শহরবাসী। যদিও পুরসভা আশ্বাস দিয়ে বলেছিল, চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে ২.৬ কিমি রাস্তায় ভূগর্ভস্থ পাইপ লাইনের কাজ হয়ে যাবে। এবং নতুন রাস্তা তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। তা হয়নি।

    এই রাস্তার উপর দমদম রোড গর্ভনমেন্ট স্পনসর্ড হাইস্কুল(গার্লস), দমদম কুমার আশুতোষ ইন্সটিটিউশন(ব্রাঞ্চ), কুমার আশুতোষ ইনস্টিটিউশন বয়েজ(মেইন), কাশীপুর ইংলিশ স্কুল, কাশীপুর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক যাতায়াত করেন। এ কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তার উপর ভোটের সময়ও কাজ থমকে গিয়েছিল। ফল বেরনোর পর সে কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। দমদম স্টেশনের অটো স্ট্যান্ড থেকে চিড়িয়ামোড় পর্যন্ত দমদম রোড যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত। 

    রাস্তার সর্বত্র ছোটো-বড়ো গর্ত। স্টোনচিপস ছড়িয়ে রয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলেই দমদম রোডে হাঁটুসমান জল জমছে। তার মধ্যে তৈরি হয়েছে গর্ত। বাইক, অটো জলে উল্টে পড়ছে। বৃষ্টিতে খাল-বিলের মতো অবস্থা হয়েছে রাস্তাটির। এর দু’দিকের দোকানদার, হাজার হাজার নিত্যযাত্রী, স্কুলপড়ুয়া, তাঁদের অভিভাবকরা, জিআরপির শিয়ালদহ ডিভিশনের এসপি অফিসে আসা পুলিশকর্মী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কলকাতা পুরসভা জানিয়েছে, ২ হাজার ৬০০ মিটার দৈর্ঘের মূল পাইপলাইন বসানোর কথা ছিল। ২ হাজার ৫০০ মিটার পাইপলাইন বসে গিয়েছে। এছাড়া অলিগলিতে নিকাশির পাইপ পাতা ও তার সঙ্গে মূল পাইপলাইন যুক্ত করার কাজ হয়নি। বর্ষার জন্য রাস্তা মেরামতে দেরি হচ্ছে। চেষ্টা চলছে কাজের গতিবৃদ্ধি করে সমস্যা দ্রুত সমাধানের।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)