• হস্তান্তরের পরও চালুই হয়নি পোদড়া ফেরিঘাট, ধোঁয়াশায় আটকে পরিষেবা
    বর্তমান | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ফেরিঘাটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বহুদিন। নির্মাণকারী সংস্থা ও স্থানীয় বিধায়ক উভয়েরই দাবি, ফেরিঘাট ইতিমধ্যেই সরকারি দপ্তরের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবুও এখনও কেন চালু হয়নি সাঁকরাইলের পোদড়া ফেরিঘাট থেকে যাত্রী পরিষেবা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বহু প্রতীক্ষিত এই ফেরি পরিষেবা চালুর অপেক্ষায় রয়েছেন সাঁকরাইল, উলুবেড়িয়া, বাগনান, বাউড়িয়া সহ দু’পাড়ের হাজার হাজার নিত্যযাত্রী ও ব্যবসায়ী।

    ২০২৪ সালের মার্চ মাসে পোদড়া ফেরিঘাট নির্মাণের কাজ শুরু করে পরিবহণ দপ্তর। নির্মাণের বরাত দেওয়া হয়েছিল স্থানীয় একটি প্রাইভেট শিপিং কোম্পানিকে। পোদড়া ছাড়াও উলটোদিকের রাজাবাগান এবং বালির জগন্নাথ ফেরি টার্মিনাল মিলিয়ে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে গোটা প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করে ওই শিপিং কোম্পানি। এর মধ্যে শুধু পোদড়া ফেরিঘাট নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। অত্যাধুনিক জেটি, টিকিট কাউন্টার, প্রতীক্ষালয়, শৌচাগার, বাইক-সাইকেল পরিবহণের ব্যবস্থা এবং সিসি ক্যামেরা বসানো হয় সেখানে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ১৫ মাসের মধ্যে প্রকল্প শেষ করে হস্তান্তর করার কথা থাকলেও এখনও তা হয়নি। তাঁদের দাবি, ঠিকাদার সংস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘাট সরকারি দপ্তরের হাতে তুলে দিচ্ছে না বলেই ফেরি পরিষেবা শুরু করা যাচ্ছে না। ফেরিঘাট চালু হলে পোদড়া ও রাজাবাগানের মধ্যে যাতায়াতের সময় ও খরচ দু’টিই অনেকটা কমবে। 

    এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্মাণকারী শিপিং সংস্থা। সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রসেনজিৎ পাত্র বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পোদড়া, রাজাবাগান ও জগন্নাথ ঘাট, তিনটি জেটির কাজ সম্পূর্ণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্বোধন না হওয়ায় আপাতত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংস্থার উপরই রয়েছে। ফলে ঘাট আটকে রাখার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলেই তাঁর দাবি। এদিকে, ফেরিঘাট চালু না হওয়ার নেপথ্যে ঘাটে যাওয়ার সংযোগকারী রাস্তা নিয়েও জটিলতা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, সত্যেন বোস রোড থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৮০ মিটার সংকীর্ণ রাস্তা চওড়া করার কাজ পরিবহণ দপ্তরের মাধ্যমে সম্পূর্ণ হলেই ফেরি পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে। 

    দক্ষিণ হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরী জানান, তাঁর ধারণা অনুযায়ী ঠিকাদার সংস্থা ইতিমধ্যেই ঘাট হস্তান্তর করেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘাট উদ্বোধনের কথা থাকলেও নির্বাচন ঘোষণার জেরে তা আর সম্ভব হয়নি। রাস্তার কাজ শেষ হলে পরিষেবা চালুর বিষয়টি এগবে বলে তিনি আশাবাদী। পাশাপাশি বিষয়টি পরিবহণ দপ্তর ও মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল পোদড়া থেকে রাজাবাগান যাওয়ার পথে একটি ভুটভুটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়। এরপর এই রুটে জলপথ পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দু’বছর আগে ফের পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেয় রাজ্যের পরিবহণ দপ্তর।
  • Link to this news (বর্তমান)