পুলিশের খাতায় ফেরার নেতাকে জেলা সভাপতি পদে বসাল ঋতব্রতরা, বিতর্ক
বর্তমান | ১৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: অস্ত্র দেখিয়ে খুনের হুমকি, তোলাবাজি সহ একাধিক ঘটনায় তারকেশ্বরের প্রাক্তন পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডুর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশের খাতায় ‘ফেরার’ তৃণমূলের এই নেতা। শনিবার ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণা হয়েছে। সেই তালিকায় আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হিসাবে নাম রয়েছে উত্তম কুণ্ডুর। তাহলে কি ‘ভালো তৃণমূল’-এর দলে নাম লেখানোয় এ যাত্রায় গ্রেপ্তারের হাত থেকে রেহাই পেলেন এই অভিযুক্ত? এই প্রশ্নই তুলতে শুরু করেছেন তারকেশ্বরের বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন তারকেশ্বর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডু, তাঁর স্ত্রী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কুহেলি কুণ্ডু, ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রূপা সরকার এবং উত্তমের সহযোগী শ্রীকুমার ঘোষ মণ্ডলের বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা আদায়, জোর করে জমি লিখিয়ে নেওয়া, খুনের হুমকির অভিযোগ করেন গিরিশ পার্কের প্রোমোটার রাজেশ আগরওয়াল। সেই অভিযোগের পর ১৭ দিন কেটে গিয়েছে। পুলিশের খাতায় এই তৃণমূল নেতা ও অভিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলাররা ‘ফেরার’। অন্যদিকে ঋতব্রত গোষ্ঠীর তৃণমূল যে ২৬ জন জেলা সভাপতির নাম ঘোষণা করেছে, তাতে আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে উত্তমকে। এই নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ঋতব্রত তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি পদে ছিলেন উত্তম। কলকাতার প্রোমোটার রাজেশ আগরওয়াল অভিযোগ জানানোর পরে সমাজমাধ্যমে রটে গিয়েছিল যে, উত্তম কুণ্ডুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ভুয়ো খবরের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকশো মানুষ ধিক্কার জানাতে জমায়েত হয়েছিলেন থানার সামনে। তারকেশ্বরের বাসিন্দাদের প্রশ্ন, যে ব্যক্তির উপর এত মানুষের ক্ষোভ, তাঁকেই জেলা সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছে ঋতব্রতরা? পুলিশ বলছে, অভিযুক্তদের খোঁজ মেলেনি। এহেন পরিস্থিতিতে দলে উত্তমবাবুর দায়িত্ব পাওয়া গোপন বোঝাপড়া নয় তো? আদৌ কি তিনি গ্রেপ্তার হবেন? এইসব প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে তারকেশ্বরের অলিগলিতে।
এ বিষয়ে বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূলের যা অবস্থা, এই সময় দুর্নীতিগ্রস্তরা ছাড়া এই দলের দায়িত্ব কেউ নেবে না। প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান দুর্নীতির পাঁকে ডুবে গিয়েছেন। তাঁকে শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে। এই বিষয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তিনি দোষী নন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তবেই তাঁকে দোষী বলা যেতে পারে।’