ঋতব্রতর তৃণমূলই ‘আসল’? লড়াই কোর্টে, ৬ আগস্ট পর্যন্ত কালীঘাটের নিয়ন্ত্রণে স্থগিতাদেশ, মমতাদের জবাব তলব
বর্তমান | ১৩ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ আপাতত চলে গেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের হাতে। অন্তত ৬ আগস্ট পর্যন্ত। এখন থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় চেয়ারম্যান অরূপ রায়। মমতা নন। একটি মামলায় আলিপুর আদালতের প্রাথমিক নির্দেশনামাকে হাতিয়ার করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, ‘আমরাই সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি কেউ যদি নিজেদের তৃণমূল দাবি করেন, সেটা অবৈধ।’ যদিও পালটা বক্তব্যে কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী অর্ককুমার নাগ জানিয়েছেন, ‘আদালতের পর্যবেক্ষণটি ফাইনাল অর্ডার নয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আইনের মারপ্যাঁচে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন।’ অর্থাৎ, লড়াই পুরোদস্তুর আদালতে।
চলতি বছরের ২২ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় কর্ম সমিতি গঠন করে বিরোধী শিবির। তারপর থেকে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী ব্লক’ মমতার সঙ্গীদের নিজেদের দিকে টেনে রাজ্য ও জেলা কমিটিও তৈরি করে ফেলেছে। এমনকি, বাইপাসের ধারে মেট্রোপলিটনে অবস্থিত তৃণমূল ভবনের ‘দখল’ নিয়ে ফেলেছে তারা। ঠিক এই আবহে রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে আলিপুর আদালতের একটি ‘প্রাথমিক নির্দেশ’ সামনে আনেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখে জাতীয় কর্ম সমিতির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপর কালীঘাট তৃণমূলের তরফে সেই মেয়াদ বাড়ানো হয়নি, অথবা ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি গঠনও করা হয়নি। কিন্তু ২২ জুন ঋতব্রত-তৃণমূলের তরফে বিশেষ অধিবেশন ডেকে জাতীয় কর্ম সমিতি গঠন করে। আর সেই কমিটির সূত্র ধরেই আদালত উল্লেখ করেছে, এখন অরূপ রায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় চেয়ারম্যান। তাঁর নেতৃত্বেই পরবর্তী শুনানি, অর্থাৎ ৬ আগস্ট পর্যন্ত তৃণমূল পরিচালিত হবে। পার্টির মেট্রোপলিটনে কার্যালয় সহ অন্যান্য জায়গায় পার্টি অফিস, দলের ফান্ড, রেকর্ড, সম্পত্তি—সব কিছু অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটির হাতে থাকবে। তারাই সবটা নিয়ন্ত্রণ করবে। তবে তাদের উপর কেন ‘অ্যাড-ইন্টারিম ইনজাংশন’ বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করা হবে না, তা আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে কালীঘাট তৃণমূলকে জানাতে হবে। সেই মতামত আসার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হবে। ঋতব্রত দাবি করেন, ‘আদলেতের পর্যবেক্ষণকে আমরা স্বাগত জানাই। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটি আইনগতভাবে স্বীকৃত। অন্য কেউ তৃণমূল কংগ্রেসের নাম দিয়ে কোনো নির্দেশ বা ঘোষণা কার্যকর করতে পারবেন না। জোর করে পার্টি অফিস দখল করে রাখতে পারবেন না। তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ আর লম্পঝম্ফ করতে পারবে না।’ আদালতের প্রাথমিক মান্যতার বিষয়টি সামনে আসার পর আইনজীবীদের পরামর্শ নিচ্ছে ঋতব্রত শিবির। তৃণমূলের নাম দিয়ে কালীঘাট শিবিরের কোনো নেতা যদি পার্টি অফিস দখল বা জোর-জবরদস্তি কোনো ধরনের কাজ করে, তাহলে আইনগত পদক্ষেণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিদ্রোহী ব্লক।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কোর্টের প্রাথমিক নির্দেশকে হাতিয়ার করে কালীঘাট তৃণমূলে বড়ো ধাক্কা দিল ঋতব্রত শিবির। যদিও কালীঘাট শিবিরেরে পক্ষ থেকে পালটা আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। আইনজীবী অর্ককুমার নাগ দাবি করেন, ‘জুঁই বিশ্বাস সহ কয়েকজন মিলে একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলার অর্ন্তবর্তীকালীন নির্দেশ নিয়ে বেনিফিট নেওয়ার চেষ্টা করছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তৃণমূল কর্মীদের বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ নেই। নির্বাচন কমিশন এখনও সিদ্ধান্ত জানায়নি আর আলিপুর আদালতও ফাইনাল অর্ডার দেয়নি।’ যদিও রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আদালতের রায় পক্ষে গেলে তার ভিত্তিতেই কমিশনে প্রতীকের জন্য আবেদন করবেন ঋতব্রতরা। সেটাই হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে তৃণমূল পুরোপুরি ‘হাইজ্যাক’ করে নেওয়ার হাতিয়ার।