• ঢাকুরিয়া স্টেশনে ভাঙা দোকান আঁকড়ে হকাররা, বেঁচে থাকা মাল বিক্রির চেষ্টা
    বর্তমান | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতা যখন আর্জেন্টিনার জয় উদযাপন করছিল তখন ঢাকুরিয়া স্টেশনের হকারদের দোকান ভাঙা হয়েছে। বর্তমানে স্টেশন চত্বর কার্যত ধ্বংসস্তূপের চেহারা নিয়েছে। ভেঙে ফেলা দোকানের মধ্যে যতটুকু মালপত্র ঠিকঠাক রয়েছে সেগুলি বেঁধে রেখেছেন হকাররা। পালা করে রাত জাগছেন। তাঁদের অভিযোগ, মালপত্র আলাদা করে রাখা ছিল। সব ফেলে দেওয়া হয়েছে। ক্যাশবাক্সে থাকা টাকাও নেই। হকাররা বেঁচে থাকা মালপত্র বিক্রির চেষ্টা করছেন। তাঁরা জানান, মালপত্র ফেরত দিলেও এখনই টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। হাতে স্লিপ ধরিয়ে দিচ্ছে।

    ঢাকুরিয়া স্টেশনের ২ নম্বর স্টেশনে ভেঙে যাওয়া দোকানের ভিতর বসেছিলেন বাপি মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী। বেঁচে থাকা মালপত্র ব্যাগে ভরছিলেন। বাপি বলেন, ‘সেদিন সকালে একবার ঘোষণা করে গেল। আমরা মালপত্র সরাচ্ছিলাম। সরিয়ে এক জায়গায় রেখেছিলাম। সেইসবও নষ্ট হয়ে গিয়েছে।’ ঢাকুরিয়ার স্কুল পড়ুয়ারা ছুটির পর এই দোকানগুলি থেকে বিস্কুট-বাদাম কিনত। বাপি বলেন, ‘কোম্পানির বিস্কুট বিক্রি করে খুব লাভ হয় না। আমরা যেটুকু বাঁচাতে পেরেছি, ওগুলো নিয়ে ফেরত দিতে যাচ্ছি। কিন্তু ওরা বলছে, এখনই টাকা দিতে পারবে না। স্লিপ ধরিয়ে দিচ্ছে হাতে।’ প্রায় ৫০-৬০ বছর ধরে এই চত্বরে বহু দোকানি কারবার করছেন। তাঁরা বললেন, ‘বাম আমলে আমরা সিআইটিইউ’র লাল হকার কার্ড পেয়েছিলাম। তারপর তৃণমূল আসার পর ওরা কার্ড দেয়। বিজেপি আসার পর আমাদের বলে গিয়েছে, কোনও ইউনিয়নকে টাকা দেবে না।’ ক্যানিংয়ের বাসিন্দা বাপির মা অসুস্থ। তিনি বাড়ি যেতে চাইছেন না। স্টেশনেই বসে রয়েছেন রাতভর। বাপির অভিযোগ, ‘এখন কেউ কিছু বিক্রি করলেই ২ হাজার টাকা জরিমানা করছে। সামনে পুজো। কীভাবে সংসার চালাব জানি না।’ সরকারের কাছে তাঁদের অনুরোধ, পুজো পর্যন্ত ব্যবসা করার অনুমতি দিক। ততদিনে অন্য ব্যবস্থা করে নেবেন।
  • Link to this news (বর্তমান)