• কয়লা খনির পাশে আচমকাই জলশূন্য পুকুর, জামুড়িয়ায় চাঞ্চল্য
    এই সময় | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, আসানসোল: জামুড়িয়ার কেন্দার খেপাডাঙা এলাকায় খোলামুখ কয়লা খনির পাশে আচমকা একটি বড় পুকুর জলশূন্য হয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার রাতে খনিতে বিস্ফোরণের জেরে পুকুরের একাংশের পাড় ভেঙে যায়। রবিবার সকালে উঠে তাঁরা দেখেন, বর্ষার জলে ভরা পুকুর প্রায় সম্পূর্ণ খালি। এর প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা ইসিএলের তিন নম্বর কোয়ারি থেকে কয়লা তোলার কাজ বন্ধ করে দেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে পুকুর মেরামত করে জলের ব্যবস্থা করতে হবে।

    স্থানীয়দের দাবি, খেপাডাঙা মাঝিপাড়ার এই পুকুরের উপর বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবন নির্ভরশীল। পানীয় জল ছাড়াও স্নান, কাপড় কাচা, অনুষ্ঠান থেকে পুজো— সব কাজেই এই পুকুর ব্যবহার করা হতো। স্থানীয় বাসিন্দা বিপদতারণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলকষ্ট। এই পুকুরের জলেই মাঝিপাড়া, যাদবপাড়া, বাদ্যকরপাড়া সমেত বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের চাহিদা মিটত। আগে পিএইচই থেকে সামান্য জল পাওয়া যেত, পরে ট্যাঙ্কারে জল আসত। সেটাও ৩০ জুন থেকে বন্ধ।’ তাঁর অভিযোগ, ‘শনিবার রাতের বিস্ফোরণের জেরেই পুকুরের বাঁধ ভেঙে জল বেরিয়ে গিয়েছে।’

    আর এক বাসিন্দা কৃষ্ণ মুর্মুর কথায়, ‘এই পুকুরেই এলাকার মহিলারা কাপড় কাচতেন, স্নান করতেন। আজ পুকুরের বাঁধ ভেঙেছে, কাল খনির পাশের ঘরবাড়িও ভেঙে যেতে পারে। আমরা বহুদিন ধরে পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছি। ইসিএল যেন অবিলম্বে পুকুর মেরামত করে জলের ব্যবস্থা করে।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসিএল। কেন্দা এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার অক্ষয়কুমার দে বলেন, ‘ব্লাস্টিংয়ের জন্য নয়, টানা দু’দিনের বৃষ্টিতে পুকুরের পাড় কিছুটা ভেঙেছে। বৃষ্টির কারণে দু’দিন উৎপাদনই বন্ধ ছিল। রবিবার প্রায় আড়াই হাজার টন কয়লা তোলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গ্রামবাসীরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিষয়টি দেখতে পুলিশকে জানানো হয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)