• ‘নিয়োগে নাক গলাবেন না’, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • দিগন্ত মান্না, মেচেদা

    রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে বিজেপিকে মূলত সাহায্য করেছে তৃণমূল সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণের রাজনীতি। নিয়োগ নিয়ে গত জমানায় ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠে এসেছে। জেলে যেতে হয়েছে গত সরকারের শিক্ষামন্ত্রীকে।

    রবিবার নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকে এসে দলীয় নেতা–কর্মীদের শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, ‘২০২৭–এর মার্চের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে রাজ্যে এক লক্ষ পদে নিয়োগ হবে। সেই নিয়োগ নিয়ে কেউ মাথা গলাবেন না। কেউ সুপারিশ করবেন না। আমরা নিয়োগের মৌখিকের নম্বর কমিয়ে পাঁচ করেছি।’ শুভেন্দু জানান, শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বরই হবে নিয়োগের মূল ভিত্তি। রাজ্যে তাই নতুন নিয়োগ নীতি চালু করা হচ্ছে।

    মেচেদায় বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ পৌঁছন। বন্ধ ঘরের ভিতরে বৈঠক হলেও হলের বাইরে থাকা সাউন্ড বক্সে তাঁর পুরো ৫০ মিনিটের বক্তৃতাই শোনা গিয়েছে। বারুইপুর কাণ্ড দিয়ে সেখানে বক্তব্য শুরু করে তিনি বলেন, ‘বারুইপুরের ঘটনায় পুলিশি অ্যাকশন প্রমাণ করেছে ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের সঙ্গে এই সরকারের কত তফাত। দুর্বৃত্তদের মাথা তুলতে দেবো না। আগের মুখ্যমন্ত্রী ছোট ঘটনা, লাভ জিহাদ, মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল — এ সব বলতেন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ভোট প্রচারে কী বলেছিলেন আপনারা জানেন। বাকিটা বুঝে নিন।’

    সাংগঠনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, কয়েকটি বিন্দুর উপরে বিজেপি এ বার ভোটে জিতেছে। যার মধ্যে রয়েছে তৃণমূলের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও সনাতনী আবেগ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিজেপি রাজ্যের মধ্যে সব থেকে বেশি শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘২০১৯–এ এখানে বিজেপি ৩৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ২০২১-এ ৪৪ শতাংশ আর ২০২৪–এ ৪৯ শতাংশ। ২০২৬–এ এই জেলায় বিজেপি ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। আগামী দিনে যে কোনও নির্বাচনে বিজেপি এই জেলা থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পাবে।’ তাঁর কথায়, ‘আগামী দু’মাসের মধ্যে নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন। ওই ভোটে প্রমাণ করে দেবো সরকারে আসার আগে বিজেপির সমর্থন কী ছিল, আর সরকার আসার পরে বিজেপির সমর্থন কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।’

    ১৬ অগস্ট দিনটিকে তৃণমূল সরকার ‘খেলা হবে’ দিবস হিসেবে পালন করত। বিজেপি সরকার সেই দিনটিকে আয়ুষ্মান (কেন্দ্রের স্বাস্থ্যবিমা) দিবস হিসেবে পালন করবে বলেও এ দিন মেচেদায় ঘোষণা করেন শুভেন্দু। অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে দলীয় কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন তাঁদের নিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন মিছিল করছেন না কেন? গেল গেল রব তোলার দরকার নেই। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যে নথি যাচাই করে যোগ্যদের টাকা দেওয়া হবে।’ তৃণমূল আমলে বিজেপি কর্মীদের উপরে অসংখ্য মিথ্যে মামলা দায়ের হয়েছে বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, আগামী দু’মাসের মধ্যে জেলার সমস্ত মিথ্যে মামলার নিষ্পত্তি করা হবে।

  • Link to this news (এই সময়)