এই সময়, চন্দ্রকোণা: আবাস যোজনার বাড়ি পেয়ে নির্মাণকাজ শুরু করিয়েছিলেন বাবা–ছেলে। ক’দিন আগে বাড়ির পাশে শৌচাগারের জন্য সেপটিক ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়। নতুন ট্যাঙ্কের ভিতরে ঢালাইয়ের পাটা খুলতে নেমেছিলেন এক শ্রমিক। সেখানে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে উদ্ধার করতে বাবা ও ছেলে সেপটিক ট্যাঙ্কে নামেন। ওই শ্রমিককে উদ্ধার করলেও ভিতরে আটকে পড়েন তাঁরা। আর উঠতে পারেননি। ট্যাঙ্কের ভিতরে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। মৃতদের নাম সুনীল পণ্ডিত (৫৯) ও লক্ষ্মণ পণ্ডিত (৩২)। রবিবার সকালে এমনই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের ভগবন্তপুর-১ পঞ্চায়েতের গুয়াডাঙা গ্রামে। ঘটনার পর মৃতদের বাড়ি যায় চন্দ্রকোণা থানার পুলিশ। কী করে এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
মৃত লক্ষ্মণের পরিবারে তাঁর স্ত্রী সোনালি, চার বছরের ছেলে ও মা সুজাতা রয়েছেন। সামান্য কিছু জমি রয়েছে পরিবারটির। বাবা–ছেলে দু’জনেই দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। পরিবারের দুই রোজগেরে সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় দিশাহীন সকলে।
এ দিন সকালে ট্যাঙ্কের নীচ থেকে ঢালাইয়ের পাটা খুলতে নেমে জ্ঞান হারান এক শ্রমিক। তাঁর খোঁজে সেপটিক ট্যাঙ্কে প্রথমে নামেন লক্ষ্মণ, উপরে দাঁড়িয়েছিলেন বাবা।ছেলের ডাকে তিনিও নীচে নামেন। জলভর্তি ট্যাঙ্ক থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ওই শ্রমিককে কোনও রকমে উপরে তুললেও তাঁরা দু’জন আর উঠতে পারেননি। অজ্ঞান ওই শ্রমিককে নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাঁকে ক্ষীরপাই হাসপাতাল পাঠানো হয়। ট্যাঙ্কে আটকে থাকা বাবা–ছেলে যে আর ওঠেননি, তা খেয়াল হয় বেশি খানিকক্ষণ পরে।তখন তাঁদের উদ্ধার করা হয়। কামারপুকুর গ্রামীণ হাসপাতালের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হলে রাস্তাতেই দু’জনের মৃত্যু হয়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কামারপুকুর থেকে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্তের পরে সোমবার দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
মৃতদের আত্মীয় অজয় পণ্ডিত বলেন, ‘সেপটিক ট্যাঙ্ক জলভর্তি অবস্থায় ঢাকনা দেওয়া ছিল। ট্যাঙ্কের জল বের করে তবেই নীচে নামা উচিত ছিল। বন্ধ থাকা সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে দমবন্ধ হয়ে যায়। এমন ভুল কী করে করল, ভাবতে পারছি না। বাড়িতে একটি চার বছরের বাচ্চা রয়েছে, দু’জন মহিলা— তাঁদের কে দেখবে?’