এই সময়, বালুরঘাট: ফের বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি ১৭ বছরের এক অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকা। বয়স জানতে পেরেই বালুরঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করল জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। লিখিত অভিযোগ পেয়ে ওই নাবালিকার স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ৷
বিগত দু’মাসে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের তরফে এমন বেশ কয়েকটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে থানায়। কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে যখন প্রশাসন সচেতনতা অনুষ্ঠান করছে, তখন একের পর নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বার ঘটনা সামনে আসায় উদ্বিগ্ন জেলা প্রশাসন। কুমারগঞ্জের ১৭ বছরের ওই নাবালিকা দিন দু’য়েক আগে প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসার সময় তার বয়সের নথি পরীক্ষা করে চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। নথি যাচাইয়ের পর দেখা যায়, ওই কিশোরীর বয়স ১৮ বছরের কম।
এরপরই আইন অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বালুরঘাট থানায় লিখিত ভাবে জানায়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ পকসো ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক ভাবে নাবালিকার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পাশাপাশি কী ভাবে এই বাল্যবিবাহ হয়েছে, পরিবারের সদস্য বা অন্য কারও ভূমিকা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এ বিষয়ে বাল্যবিবাহ রোধে কাজ করা শক্তি বাহিনীর জেলা কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা জেলাজুড়ে বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতামূলক প্রচার করছি। আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে বাল্যবিবাহ ও আর্লি পেগনেন্সি। বর্তমানে এমন ঘটনা ঘটলে পুলিশ প্রশাসন কড়া হাতে তা মোকাবিলা করছেন। আগামী দিনে আরও বেশি করে সচেতনতা শিবির করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘আগে আর্লি পেগনেন্সির হার২৪ শতাংশ ছিল। বর্তমানে তা কমে ১২ শতাংশতে নেমে এসেছে। তবে পুরোপুরি বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়নি। সাধারণ মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রত্যন্ত এলাকায় সচেতনতা শিবির করা হবে।’