এই সময়, শিলিগুড়ি: প্রতিদিন যাঁরা শিলিগুড়ি শহর পরিষ্কার রাখেন, তাঁরাই বঞ্চিত! অভিযোগ, নিজেদের সমস্যা নিয়ে নির্মল সাথী ও নির্মল বন্ধুরা পুরসভায় জানালেও সমস্যা মেটেনি। রবিবার 'সরাসরি শঙ্কর' অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরলেন পুরসভার সাফাইকর্মীরা। শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ সব শুনে তাঁদের সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন। এ দিন শিলিগুড়ি হিন্দি হাই স্কুল মাঠে নির্মল সাথী ও নির্মল বন্ধুরা মন্ত্রীকে বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিদিন ভোর থেকে কাজ করলেও ন্যূনতম মজুরি মেলে। সরকারি সুবিধা সে ভাবে কেউ পান না। উপস্থিত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রতিমা বোস, কানাই মজুমদার, কানু দাস-সহ অনেকে।
নির্মল বন্ধু কানুর কথায়, 'বাড়ি ও রাস্তা থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করি। অনেক সময়ে হাত দিয়েই পচা-গলা আবর্জনা আলাদা করতে হয়। কিন্তু আমাদের গ্লাভস পর্যন্ত দেওয়া হয় না পুরসভা থেকে। কাজ শেষে হাত ধোওয়ার জন্য সাবানও মেলে না। এতে নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।' নির্মল সাথী প্রতিমা বোস বলেন, 'আমাদের কোনও প্রভিডেন্ট ফান্ড নেই, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনও সুবিধাও নেই। এত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার পরেও আমরা সম্পূর্ণ অস্থায়ী কর্মী হিসেবেই কাজ করে চলেছি।' এত কিছুর পরেও নির্ধারিত সময়ে বেতন মেলে না বলে অভিযোগ। অনেক ক্ষেত্রে মাসের ২০ তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার পরে বেতন দেওয়া হয়। শিলিগুড়ি পুরসভায় ১২৪ জন নির্মল সাথী এবং ৬৮০ জন নির্মল বন্ধু কর্মরত। নির্মল সাথীদের ক্ষেত্রে দৈনিক বরাদ্দ ৩০৩ টাকা এবং নির্মল বন্ধুদের ক্ষেত্রে ২০২ টাকা। সংসার চালাতে মাসিক বেতন ১৮ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা দাবি করেছএন তাঁরা। পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন ছুটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, চিকিৎসা-সবিধার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের অভিযোগ, আবর্জনা সংগ্রহ ও পরিবহণের জন্য যে পরিকাঠামো আছে তা অনেক কম। পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকে শুক্রবার প্রতিদিন গড়ে ২৮০ থেকে ৩৫০ টন আবর্জনা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার ও রবিবার তুলনামূলকভাবে আবর্জনার পরিমাণ কিছুটা কম থাকে। মন্ত্রী বলেন, 'গত পুরবোর্ড এই সমস্যা মেটাতে কোনও নজর দেয়নি। এটা ঠিক, পরিকাঠামো গত সমস্যা রয়েছে। নির্দিষ্ট দপ্তরে কথা বলে এই সমস্যাগুলো মেটানোর চেষ্টা করব।'