একসময় লন্ডন থেকে আসতেন চিকিৎসকরা, সেই ঐতিহ্যবাহী জিয়াগঞ্জ মিশন হাসপাতাল আবার খুলছে! কবে জানুন
News18 বাংলা | ১৩ জুলাই ২০২৬
: মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী খ্রিস্টীয় সেবা সদন লন্ডন মিশন হাসপাতাল পুনরায় চালুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সরব ছিলেন স্থানীয় মানুষ। অবশেষে সেই দাবিকে সামনে রেখে বড় আশ্বাস দিলেন মুর্শিদাবাদের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষ। খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে এই হাসপাতাল।
প্রায় ১৪ একর বা আনুমানিক ৪২ বিঘা জমির উপর অবস্থিত এই ঐতিহাসিক হাসপাতালটি ১৮৯৪ সালে লন্ডন মিশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। একসময় লন্ডন থেকে আসা চিকিৎসকদের মাধ্যমে এখানে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হত। মুর্শিদাবাদ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ, বিশেষ করে একাধিক বিধানসভা এলাকার বাসিন্দারা এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। পরবর্তীতে নানা কারণে হাসপাতালটির পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়।
২০০৬ সালে তৎকালীন বাম পরিচালিত জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে হাসপাতালটি পুনরায় চালু করা হয়েছিল। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও কেনা হয়েছিল। কয়েক বছর পরিষেবা সচল থাকলেও ২০১৬-১৭ সালের পর আবার হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে পড়ে। কোভিড মহামারির সময় কিছুদিন কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে বিশাল ভবন ও পরিকাঠামো কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল পুনরুজ্জীবনের দাবিতে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই হাসপাতাল পুনরায় চালু হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গৌরী শঙ্কর ঘোষ। সেই মতো রাজ্যে মন্ত্রীসভায় স্থান পেতেই গৌরী বাবুর দাবি এক বছরের মধ্যেই চালু হবে এই হাসপাতালটি।
গৌরী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “ভোটের আগে আমরা মানুষকে কথা দিয়েছিলাম যে লন্ডন মিশন হাসপাতাল আবার চালু করা হবে। এই হাসপাতাল চালু করার ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি মানুষের কাছে এক বছর সময় চেয়েছিলাম। বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এক বছর নয়, তারও আগেই এই হাসপাতাল জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।”
মন্ত্রী আরও জানান, হাসপাতালটি পুনরায় চালু হলে জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ-সহ গোটা মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষ উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে থাকা এই ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেন। মন্ত্রীর এই আশ্বাস শুনতেই এখন আশায় বুক বাঁধছেন এলাকার বাসিন্দারা । আবার ব্রিটিশ আমলের এই হাসপাতালটি চালু হলেই উপকৃত হবেন জিয়াগঞ্জ শহরবাসী। এখন জিয়াগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের নজর একটাই প্রশ্নে—প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কবে আবার চিকিৎসার আলো জ্বলবে ঐতিহ্যবাহী লন্ডন মিশন হাসপাতালের প্রাঙ্গণে?