Aরাজ্যের গুন্ডা দমন আইনের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের। সোমবার মামলা দায়ের করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের। মামলা দায়ের করার পরেই শুনানি হবে জানিয়ে দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।
১৩ জুলাই, সোমবার থেকেই রাজ্যে গুন্ডাদমন আইন লাগু হওয়ার কথা। গত শুক্রবারই বহরমপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পাস হওয়ার পরে তাতে রাজ্যপাল অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে। সোমবার থেকে রাজ্যে গুন্ডাদমন বিল চালু হবে বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
এই বিল পাশের আগে বিধানসভায় তা নিয়ে টানা আলোচনা হয়েছে, তারপর ২৯ জুন পাস হয়েছিল গুন্ডাদমন বিল। নথি অনুযায়ী এর নাম, ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। তারপরে তা আইনে পরিণত হয়েছে। এই আইনের এমন কিছু ক্ষমতা রয়েছে যার বিরোধিতা করেছে বিরোধী দলগুলি। এই আইনের বলে পুলিশ চাইলে কোনও অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং ১ বছর পর্যন্ত আটক রাখতে পারে। সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সংজ্ঞার মধ্যে বহু বিষয় ঢোকানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ধরাতে বা আতঙ্ক তৈরি করতে পারে এমন কাজ করলেও গুন্ডাদমন আইনের অধীনে গ্রেপ্তার করতে পারে পুলিশ। সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করলেও এই আইনের অধীনে গ্রেপ্তার হতে পারেন কেউ।
বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে এই আইনের ব্যবহার করা হতে পারে। কিন্তু বার বার রাজ্যের বিজেপি সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যকে গুন্ডামুক্ত করার লক্ষ্যেই এই আইন। রাজনৈতিক কারণে এর ব্যবহার হবে না। বিধানসভায় আলোচনার সময়েও মুখ্যমন্ত্রী এবং একাধিক মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সুশাসন কায়েম করতেই গুন্ডা ও সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।