• তসলিমা ফিরবেন কলকাতায়? শুরু জোর জল্পনা
    আজকাল | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সপ্তাহের শুরুতেই সকাল থেকে জোর জল্পনা। রাজ্যে পালাবদলের পর লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনার আর্জি জানিয়ে পোস্ট করেছেন এক প্রবাসী। সমাজমাধ্যমের সেই পোস্টই নিজের ফেসবুক পেজে ভাগ করে নিয়েছেন তসলিমা। 

    বাংলাদেশের নাগরিক বর্তমানে আমেরিকা নিবাসী বিপ্লব পাল সমাজমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন। পোস্টে শুভেন্দু ও তসলিমার ছবি দিয়ে শিরোনাম- 'তাড়িয়েছিল সিপিএম, ডাকেনি তৃণমূল!বিজেপির জমানায় কলকাতায় আসছেন তসলিমা'। বিপ্লবের দাবি, বাম ও তৃণমূল আমলের 'ভুয়ো ধর্মনিরপেক্ষতা'-কে তুলোধোনা করা হয়। নারীর অধিকার, ধর্মীয় মৌলবাদ ও সংখ্যালঘু নিপীড়নের বিরুদ্ধে যে লেখিকার অবদান বিশেষ উল্লেখ্য, তাঁকেই রাজ্য থেকে বিতারিত করে রেখেছিল দুই সরকার। 

    বিপ্লব তাঁর পোস্টে লেখেন, 'বামফ্রন্ট সরকার তাঁর আত্মজৈবনিক গ্রন্থ দ্বিখণ্ডিত নিষিদ্ধ করেছিল। ২০০৫ সালে কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। অর্থাৎ আদালত যেখানে পাঠকের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়াল, সেখানে সিপিএমের সরকার ইসলামিক মৌলবাদিদের চাপের সামনে নতজানু হয়েছিল।...সেই মুহূর্তেই সিপিএমের তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে যায়।' পাশাপাশি লেখেন, 'সিপিএম নিজেকে সাম্প্রদায়িকতার প্রধান বিরোধী বলে প্রচার করলেও তসলিমার ক্ষেত্রে তাদের আচরণ ছিল গভীরভাবে সাম্প্রদায়িক। কারণ সাম্প্রদায়িকতা শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের নামে রাজনীতি নয়। কোনও ধর্মীয় গোষ্ঠীর সংগঠিত চাপকে নাগরিক স্বাধীনতার ঊর্ধ্বে বসানোও সাম্প্রদায়িকতা।'

    তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও তাঁর অভিযোগ, '২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় এসে এই অন্যায় সংশোধন করতে পারত। তারা বলতে পারত, বামফ্রন্ট যে লেখককে অপমান করে সরিয়েছে, নতুন সরকার তাঁকে মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু তৃণমূল তা করেনি। বরং নির্বাসনকে নীরবে স্থায়ী করেছে। ২০১২ সালে কলকাতা বইমেলায় তাঁর বই প্রকাশের অনুষ্ঠান মুসলমানদের হুমকির মুখে বাতিল হয়। পরবর্তী বছরগুলিতেও তাঁর স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক প্রত্যাবর্তনের জন্য সরকার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি। বামফ্রন্ট তাঁকে এক রাতে বের করে দিয়েছিল। তৃণমূল সেই রাতটিকে প্রায় দুই দশকে পরিণত করেছে।'

    পোস্টের শেষে বিপ্লবের আর্জি, 'তসলিমা ফিরুন—কারণ বাংলা ভাষা কোনও দলের সম্পত্তি নয়, তিনি ফিরুন—কারণ মৌলবাদীর ক্রোধ সংবিধানের বিকল্প নয়। তিনি ফিরুন—কারণ যে শহর তার সমালোচককে আশ্রয় দিতে পারে না, সে নিজেরই বৌদ্ধিক নির্বাসন রচনা করে। তসলিমার ঘরে ফেরা হবে বাংলার নিজের কাছে ফিরে আসা।' 

    সকালে তসলিমা নিজেই এই পোস্ট শেয়ার করায় সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর তরজা। শেষমেশ কি শেষ হবে নির্বাসন? রাজ্যে ফের ফিরে আসবেন লেখিকা? এখন সেই প্রশ্নই উঁকি দিচ্ছে সকলের মনে।
  • Link to this news (আজকাল)