সুপ্রিম কোর্টে বাংলার মাদ্রাসা শিক্ষকদের বড় ধাক্কা
আজকাল | ১৩ জুলাই ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের চাকরি স্থায়ী করা এবং রাজ্য সরকারের অনুদান-প্রাপ্তি প্রকল্পের আওতায় বেতন ও ভাতার দাবি সংক্রান্ত একাধিক আবেদন সোমবার খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি এ জি মসীহের বেঞ্চ মোট ৩৫০টি দাবির মধ্যে ১৩টি দাবি খতিয়ে দেখে। বেঞ্চ জানিয়েছে যে, কোনও আবেদনই আদালতকে কোনও ধরনের স্বস্তি বা প্রতিকার প্রদানের বিষয়ে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
সুপ্রিম কোর্টের আদেশে উল্লেখ, "আমাদের নির্দেশ অনুযায়ী, ৩৫০ জনেরও বেশি আবেদনকারীর মধ্যে ১৩ জনের তথ্য যাচাই করে আমাদের সামনে পেশ করা হয়েছিল। আমরা সেই ভিত্তিতেতেই এগোচ্ছিলাম। ভেবে ছিলাম যে, যদি ওই ১৩ জনের মধ্যে একজনও আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারেন, তবেই আমরা অন্য মামলাগুলোর দাবি খতিয়ে দেখব। দুর্ভাগ্যবশত, ওই ১৩ জনের কেউই আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারেননি। সমস্ত রিট পিটিশনই ভিত্তিহীন এবং তাই খারিজ করা হল।"
বিবাদের সূত্রপাতএই বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল 'পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন, ২০০৮'-এর বিভিন্ন বিধানের বৈধতা নিয়ে দায়ের করা আবেদনের মাধ্যমে। এই আইনের আওতায় একটি বিধিবদ্ধ কমিশন গঠন করা হয়েছিল, যার কাজ ছিল অনুদান-প্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা। এর ফলে স্থানীয় মাদ্রাসা পরিচালন সমিতিগুলোর (ম্যানেজিং কমিটি) স্বাধীনভাবে শিক্ষক নিয়োগের প্রথাগত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
২০১৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টের একক বিচারপতির বেঞ্চ এই আইনটিকে বাতিল বলে ঘোষণা করে। এর এক বছর পর, ২০১৫ সালে, একটি ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায় বহাল রাখে। হাইকোর্ট আইনটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে জানায় যে, এটি সংবিধানের ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, সমস্ত সংখ্যালঘুর নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি ও পরিচালনার অধিকার রয়েছে।
তবে, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট ২০০৮ সালের ওই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে। এরপর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট একটি কমিটি গঠন করে। হাইকোর্টের ২০১৫ সালের রায় (যেখানে- আইনটিকে অসাংবিধানিক বলা হয়েছিল) এবং সুপ্রিম কোর্টের ২০২০ সালের রায় (যেখানে আইনটিকে বহাল রাখা হয়েছিল) এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে যেসব নিয়োগ হয়েছিল, সেগুলোর বৈধতা যাচাই করাই ছিল ওই কমিটির কাজ।
কমিটি ওই নিয়োগগুলোকে অবৈধ বলে চিহ্নিত করে। কিন্তু আইনি অনিশ্চয়তার সেই সময়কালে কমিশনের কাঠামোর বাইরে নিয়োগ পাওয়া শত শত কর্মী এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন।