বঙ্গে চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, আসলে কী এই আইন?
আজকাল | ১৩ জুলাই ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনী ইশতেহারে বিজেপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) চালু করা। রাজ্যে পালা বদলের পরে নতুন সরকার ইউসিসি কার্যকর করতে নতুন বিল আনার পরিকল্পনা করছিল। চলতি বিধানসভা অধিবেশনে বিলটি পেশ করা চিন্তাভাবনাও চলছিল। রাজ্য সরকার আপাতত ‘দ্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড, ওয়েস্ট বেঙ্গল, ২০২৬’ শীর্ষক খসড়া বিল পরীক্ষা ও পর্যালোচনার জন্য একটি নয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। বিজেপির জন্য ইউসিসি তাদের দীর্ঘদিনের আদর্শগত ও নীতিগত অঙ্গীকারগুলির মধ্যে অন্যতম। আইন হিসেবে পাস হলে, এটি হবে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রবর্তিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কার।
সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের জন্য অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার একটি খসড়া বিল তৈরি করেছে। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও উইল সংক্রান্ত ব্যক্তিগত দেওয়ানি বিষয়ে একটি সামগ্রিক আইনি কাঠামো গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির লক্ষ্য হল ধর্ম নির্বিশেষে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির হস্তান্তর এবং দত্তক গ্রহণের মতো বিষয়গুলি পরিচালনার জন্য একটি সাধারণ দেওয়ানি আইন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
ভারতে প্রথম রাজ্য হিসেবে উত্তরাখণ্ড অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছে। বিজেপি গুজরাট ও অসমেও এই বিল কার্যকর করেছে। পশ্চিমবঙ্গও সেই তালিকায় যুক্ত হবে। এর সমর্থকদের যুক্তি, একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো আইনের চোখে সমতা নিশ্চিত করে এবং ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইন থেকে তৈরি হওয়া বৈষম্য দূর করে।
বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রস্তাবিত কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বিবাহ আইন। সকল সম্প্রদায়ের জন্য বিবাহের অভিন্ন ন্যূনতম আইনসম্মত বয়স। আইনগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করার জন্য বিয়ের বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রি। এছাড়াও, যে যে বিষয়গুলি থাকবে বিলে-
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ইউসিসির প্রতি দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছিলেন, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি বিজেপির আদর্শগত কর্মসূচির অংশ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও বিলটিকে সমর্থন করে এটিকে বিজেপির দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিজেপি সূত্রে দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের একটি অংশ অভিন্ন দেওয়ানি বিধির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এটিকে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনি অধিকার জোরদার করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।