• কার জন্য তৃণমূল ছেড়েছিলেন হুমায়ুন কবীর?
    আজকাল | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • শ্রেয়সী পাল: রোজই একটু একটু করে ভাঙছে 'মমতা পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস'। একসময় তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি যাঁদের চোখ দিয়ে বিভিন্ন জেলা দেখতেন তাঁরাই বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর যোগ দিচ্ছেন 'ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেসে'। তৃণমূল কংগ্রেসের 'দুর্নীতি' নিয়ে রোজই 'মমতা পন্থী' এবং 'ঋতব্রত পন্থী' তৃণমূল নেতাদের মধ্যে চলছে বাগযুদ্ধ। 

    রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙার দরবার হলে একুশে জুলাই-এর প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখতে উঠে কান্দির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা 'ঋতব্রত তৃণমূল'এর তরফে শনিবার বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হওয়া অপূর্ব সরকার ডেভিডকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেতা তথা দলের সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। দলের নেতাকর্মীদের সামনে বক্তব্য রাখার সময় তৃণমূল সাংসদ অভিযোগ করেন, হুমায়ুন কবীর, ডেভিডের জন্যই দল ছেড়েছে। 

    প্রসঙ্গত, এবছরের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে কান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের লড়াই করেছিলেন অপূর্ব সরকার ডেভিড। তৃণমূলের প্রার্থী ছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন দলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পদে ছিলেন কিন্তু তাঁর সঙ্গে গত প্রায় ২ বছর দলের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সম্পর্ক একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তৃণমূলের থাকার সময় হুমায়ুন কবীর একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, অপূর্ব সরকার দলের মধ্যে তাঁর বিরোধীদের মদত দেন। 'অপূর্ব সরকার ঘনিষ্ঠ'দের জন্যই শেষের দিকে হুমায়ুন কবীর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভরতপুরে যেতে পারতেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

    তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর নিজের নতুন দল 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' প্রতিষ্ঠা করেন। এ বছরের নির্বাচনে হুমায়ুন নিজের নতুন দলের প্রতীকে নওদা এবং রেজিনগর দু'টি আসনে জয়ী হয়েছিলেন।  তবে তিনি রেজিনগর আসন থেকে পদত্যাগ করেছেন। সেই আসনে এবার তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ রবিনের উপনির্বাচনে লড়াই করার কথা রয়েছে। 

    একুশে জুলাই-এর প্রস্তুতি হিসেবে রবিবার মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় এসে কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কল্যাণবাবু বলেন,"ডেভিড একাই মুর্শিদাবাদ জেলাটাকে নষ্ট করে দিয়ে চলে গিয়েছে।" সমর্থকদের করতালীর মধ্যেই এরপর কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন,"হুমায়ুন কবীর গেল এই ডেভিডের জন্য।" নিজের কথার পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন," হুমায়ুন কবীরকে আমাদের হারাতে হয়েছে  ডেভিডের জন্য। আবার ইউসুফ পাঠান আমাকে বলে, 'দাদা ক্যায়া কারে ডেভিড মেরা জান খা লেতা হে। আরে ইউসুফ পাঠান, অভি তেরা ডেভিড ভি তেরা সাথ সাথ চলা গেয়া। তেরা জান ক্যায়া তেরা পুরা দিল খা জায়গা।" পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন," অতীতে এই সমস্ত নেতারা গাদ্দারি করেননি বলেই তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি।" প্রসঙ্গত, তৃণমূল দল ছাড়ার আগেও হুমায়ুন কবীর একাধিকবার দলের শীর্ষ নেতাদেরকে অপূর্ব সরকার এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ তৎকালীন ভরতপুর -১ এবং ভরতপুর-২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি যথাক্রমে মুস্তাফিজুর রহমান সুমন এবং নজরুল ইসলাম টারজন সম্পর্কে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু অদৃশ্য কোনও কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে কখনই তৃণমূল দল কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অনেকেই মনে করেন হুমায়ুন কবীরের দল ত্যাগের পেছনে এই অভিমানও কাজ করেছিল। 

    ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর দু'টি আসনে জয়ী হলেও অপূর্ব সরকার ডেভিড কান্দি আসনের পরাজিত হয়েছেন।  আর তারপরই  তিনি 'ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেসে'র নাম লিখিয়েছেন। 

    কল্যাণ ব্যানার্জির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ার জন্য হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন," গত কয়েক বছরে  আমি অপূর্ব সরকার এবং আরও কয়েকজন নেতার সম্পর্কে অভিষেক ব্যানার্জি এবং দলের অন্য শীর্ষ নেতাদেরকে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছে। এদের দুর্নীতি সম্পর্কেও দলের শীর্ষস্তরে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তখন দল আমার কথা শোনেনি।  তৃণমূল কংগ্রেস এখন আমার  রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।" অন্যদিকে কল্যাণ ব্যানার্জির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে 'ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেসে'র বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার ডেভিড বলেন," উনি ভালো আইনজীবী জানতাম। কিন্তু আজ তিনি কমেডিয়ান না জোকারের রোল করছিলেন তা জানিনা। হুমায়ুন কবীর নিজে জানে দলের ব্লক সভাপতি নির্বাচনের সময় সুব্রত বক্সীর উপস্থিতিতে এবং চাটার্ড ফ্লাইটে চড়া নেতা (পড়ুন অভিষেক ব্যানার্জি) ও প্রতীক জৈনের সামনে কী আলোচনা হয়েছিল।" তিনি আরও বলেন," হুমায়ুন কবীর এটাও জানে তাঁকে তিনবার শোকজ নোটিশ কে ধরিয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে দলে কে অভিযোগ করেছিল। আমি তো তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করিনি।"

    অপূর্ব সরকার বলেন," তাই কল্যাণবাবুকে বলব মা কালীর সামনে দাঁড়িয়ে আপনি যেমন ভিডিও করেন এই কথাগুলোও মা কালীর সামনে দাঁড়িয়ে বলবেন আর ভিডিও করবেন। আজকে মুর্শিদাবাদের মাটিতে দাঁড়িয়ে যে কথা বলেছেন সেই কথাই মা কালীর সামনে দাঁড়িয়ে ইউসুফ পাঠান ,অপূর্ব সরকার ,আবু তাহের খান সম্পর্কে মা কালীর সামনে বলবেন।। তারপর সেই ভিডিও আমাকে পাঠাবেন। না হলে ভাববো আপনি একটা ভুয়ো মেকি 'মাল'।" 
  • Link to this news (আজকাল)