• 'জাতীয় সুরক্ষা আগে,' দমদমে রানওয়েতে ওই মসজিদে নমাজ বন্ধ নিয়ে কী বলছেন শুভেন্দু?
    আজ তক | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • কলকাতা বিমানবন্দরের ভিতরে মসজিদে শনিবার থেকেই নমাজ বন্ধ হয়েছে। বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত ১৩০ বছরেরও বেশি পুরনো গৌরীপুর জামা মসজিদে শনিবার থেকে তিন দিনের জন্য নমাজ স্থগিত করা হয়েছে। মসজিদটির সংস্কার কাজের জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে এক আধিকারিক জানিয়েছেন। এই মসজিদটি, যা বাঁকড়া মসজিদ নামেও পরিচিত, দমদম বিমান বন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে থেকে কয়েকশ মিটার দূরে অবস্থিত। জাতীয় নিরাপত্তা ও রানওয়ে সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন, সরকার কাউকে ধর্মপালনে কোনওরকম বাধা দিচ্ছে না। তবে জাতীয় সুরক্ষা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আগে দেখতে হবে। 

    কলকাতা বিমানবন্দর থেকে মসজিদ স্থানান্তরিত করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'জাতীয় সুরক্ষা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আগে দেখতে হবে। এই বিমানবন্দরের লোকেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। চিন, বাংলাদেশ সব কাছে। এটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এখানে এভাবে খুলে রাখা যায় না। আমরা তো কাউকে ধর্মপালনে বাধা দিইনি। ভদ্র থাকবেন। আইন মেনে চলবেন। কোনও অসুবিধা নেই। সব ঠিক চলবে। সুন্দর চলবে।' 

    পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদায় সাংগঠনিক বৈঠকের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই বিমানবন্দরের অবস্থান খুব গুরুত্বপূর্ণ। চিন, বাংলাদেশ সব কাছে। এটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এখানে এ ভাবে (মসজিদ) খুলে রাখা যায় না।’
    উল্লেখ্য, সম্প্রতি যে বৈঠকে বিমানবন্দরের ভিতরে থাকা মসজিদে স্থানীয়দের প্রবেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেখানে মসজিদ কমিটির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী সেই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেননি। এ নিয়ে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পাবে। উনি (সিদ্দিকুল্লা) খুব নরম নরম কথা বলেছেন। আগের সরকার হলে উনি ধমকাতেন।’

    শুভেন্দু বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নিরাপত্তার দিক থেকে এই বিমানবন্দরের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিন ও বাংলাদেশ—সবই এর কাছাকাছি। এটি একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। তাই এটিকে এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা যায় না। বাকি সব ঠিকঠাক  আছে। আমরা কাউকে তাদের ধর্ম পালনে বাধা দিইনি। তারা বলেছিল যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুসলমানদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে এবং তারা আর নমাজ পড়তে পারবে না। কিন্তু তারা পশুবলি সংক্রান্ত আইন মেনে চলেছে, তাই কোনও সমস্যা হয়নি। মহরমের সময় তারা বাড়িতে অস্ত্র রেখে বাইরে বেরিয়েছিল, এতেও কোনো সমস্যা হয়নি। ভদ্র আচরণ করুন, আইন মেনে চলুন এবং নিজের ধর্ম পালন করুন। অন্যের কানে কানে কানাঘুষো করার কোনো প্রয়োজন নেই। সবকিছু ঠিকঠাকই থাকবে, সুন্দরভাবেই চলবে। আর আপনাকে 'বন্দে মাতরম' গাইতেই হবে।

    প্রসঙ্গত,বিমানবন্দরের ভিতরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বহু বছর ধরেই বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, রানওয়ের এত কাছাকাছি সাধারণ মানুষের নিয়মিত যাতায়াত নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
    আগেই কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক সংসদে জানিয়েছিল, মসজিদটির অবস্থানের কারণে দ্বিতীয় রানওয়ের থ্রেশহোল্ড সরিয়ে নিতে হয়েছে। এর ফলে জরুরি অবতরণ, কম দৃশ্যমানতায় বিমান নামানো এবং নেভিগেশন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সিআইএসএফও দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে মসজিদটিকে বিমানবন্দরের সুরক্ষিত এলাকার বাইরে স্থানান্তরের সম্ভাবনা  বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে।
     
  • Link to this news (আজ তক)