• গুন্ডাদমন আইন নিয়ে মুখ খুলেছেন শমীক
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৩ জুলাই ২০২৬
  • রাজ্যে সংগঠিত অপরাধের কোমর ভাঙতে এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে সোমবার থেকে পাকাপাকিভাবে বলবৎ হয়ে গেল বহুচর্চিত ‘গুন্ডাদমন আইন’ । গত শুক্রবার বারুইপুরের এক সভা থেকে এই আইন কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবং দুষ্কৃতীদের মনে আইনের কঠোর ভীতি সঞ্চার করতেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই আইনের পোশাকি নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’।

    এই আইন কার্যকর হওয়া মাত্রই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার এই নতুন রূপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য । পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে এতদিন আইনের শাসন ছিল না, ছিল শাসকের আইন। এই কথাটি মহামান্য আদালতের সামনে মানবাধিকার কমিশনও বলেছিল। সেদিন হাইকোর্ট এই বক্তব্যের ওপর কোনও টিপ্পনী কাটেনি বা বিপরীত পর্যবেক্ষণ দেয়নি। মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ।’

    শমীকের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই ‘শাসকের আইন’-এর স্বরূপ বুঝতে পেরেই পূর্বতন সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। অপরাধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, ‘কেউ যদি এখন নিরপরাধ মানুষের ওপরে আক্রমণ করে, তবে তার জায়গা হবে আকাশে, আর না হলে জেলের ভেতরে বন্ধ অল্প বাতাসে।’

    নয়া আইনের তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, ‘এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার’ বা এলাকাছাড়া করার বিশেষ প্রশাসনিক ক্ষমতা। এখন থেকে জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা যদি নিশ্চিত হন যে, কোনও দাগী অপরাধী বা গুন্ডা নির্দিষ্ট এলাকায় থাকলে শান্তিভঙ্গ হতে পারে, তবে সেই অপরাধীকে এক বছরের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকা বা সমগ্র জেলা থেকে ‘বহিষ্কার’-এর নির্দেশ দিতে পারবেন।

    আইনটিকে আরও কঠোর করতে এর আওতাধীন সমস্ত অপরাধকে সম্পূর্ণভাবে জামিন-অযোগ্য করা হয়েছে। এর ফলে, পুলিশ কোনও ওয়ারেন্ট বা পরোয়ানা ছাড়াই অভিযুক্তকে সরাসরি গ্রেফতার করতে পারবে। আদালত থেকে সহজে জামিন পাওয়ার পথ অপরাধীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। সিন্ডিকেট বা সংগঠিত অপরাধের মাধ্যমে উপার্জিত যে কোনও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং অবৈধ টাকা সরাসরি বাজেয়াপ্ত করার পূর্ণ আইনি অধিকার দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।

    এই বিল বিধানসভায় পাশ হওয়া এবং রাজ্যপালের অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, এই কড়া আইনের প্রয়োজন অনস্বীকার্য ছিল। তাঁর কথায়, “এটা খুব দরকার ছিল, সময়ের দাবি ছিল। রাজ্যে ৩৪ বছর কমিউনিস্ট হার্মাদদের সরকার ছিল, তারপর ১৫ বছর চলেছে তৃণমূলী গুন্ডাদের রাজত্ব। তাদের জব্দ করার জন্য এই আইনের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। আমরা বিধানসভায় আইন পাশ করিয়েছি এবং মহামান্য রাজ্যপালও এতে অনুমোদন দিয়েছেন।”
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)