প্রথম বিদেশযাত্রাতেই ঘনিয়ে এল বিপর্যয়! অথচ এমনটা যে হতে পারে, দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি ভিয়েতনামে নৌকাডুবিতে মৃত তামিলনাড়ুর ব্যবসায়ী শেখ আবদুল্লা আবদুল মজিদের পরিবার। যেদিন নৌকা করে সমুদ্রসফরে বেরিয়েছিলেন, ঠিক তার আগে ফোন করেছিলেন বাড়িতে। ভিডিও কলে দেখেছিলেন সদ্যোজাত নাতনির মুখ। আনন্দে আত্মহারা ‘দাদু’ এর পর জানান, এখন দ্বীপ দেখতে যাচ্ছেন। তাই তাঁকে যেন আর ফোন না করা হয়।
বেড়ানো শেষ হলে নিজেই ফোন করবেন। তবে ফোন রাখার আগে আশপাশের দৃশ্য ভিডিও কলে দেখান স্ত্রী-পুত্র-মেয়েকে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, মজিদের এটাই ছিল প্রথম বিদেশ যাত্রা। এর আগে একাধিকবার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু নিজে না গিয়ে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন বছর তেতাল্লিশের ব্যবসায়ী। এবারও ছেলেরই যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন মজিদ। সোমবার দেশে ফেরার কথা ছিল মজিদের। এরই মধ্যে শনিবার আসে নৌকা-দুর্ঘটনার খবর। মজিদের এক আত্মীয় জানান, মজিদ ফোন কেটে দেওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই নৌকাডুবির খবর পান তাঁরা। জানতে পারেন, মোট ১৫ জন ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। আর এই তালিকায় নাম রয়েছে তিরুচিরাপল্লীর বাসিন্দা মজিদেরও।
প্রসঙ্গত, মৃতদের তালিকায় দশজনই তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শোক জানিয়েছিলেন তামিল মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ও। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিহতদের দেহ যাতে দ্রুত রাজ্যে ফিরিয়ে আনা যায়, ভিয়েতনামের দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলতে তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে নির্দেশ দিয়েছেন। নৌকা দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে তদন্তকারীদের অনুমান, প্রবল ঝোড়ো হাওয়া এবং উত্তাল ঢেউয়ের জেরেই নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, সমুদ্রে ‘খেলনার মতো’ উলটে গিয়েছিল। দুর্ঘটনার পর আশপাশের একাধিক নৌকা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জলে পড়ে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধারের কাজ শুরু করে। পরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, উপকূল রক্ষী এবং অন্যান্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়।