মাথার উপর অভিযোগের পাহাড়। তার জেরে গ্রেপ্তারি এড়াতে গা ঢাকা দেওয়া সত্ত্বেও শেষপর্যন্ত লাভ হয়নি। সোমবার ভোরে খড়দহ থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর (Tirthankar Ghosh)। দুপুরে তাঁকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় যথারীতি চলল ডিম-হামলা! খড়দহ থানার পুলিশ লক-আপ থেকে তীর্থঙ্করকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তোলার স্বল্প সময়টুকুতেই তাঁর ওপর ডিম ছুড়ল উত্তেজিত জনতা। একে অপরকে বললেন, ‘মার ডিম।’ সেইসঙ্গে ক্ষুব্ধ লোকজনের হুঁশিয়ারি, ‘‘ছেলের থেকে বড় খুনি নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh)। ছেলে ডিম খেয়েছে, বাবা গোবর-কাদা খাবে। আমরা ওসব নিয়ে তৈরি।”
তীর্থঙ্করের গ্রেপ্তারিতে পানিহাটি জুড়ে রীতিমতো উৎসবের মেজাজ। তাঁর বাড়ির সামনে ব্যান্ড বাজিয়ে রীতিমতো নাচগান শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকের হাতেই দেখা গেল ডিম। তবে একাংশের দাবি, যারা এসব করছে, তারা বিজেপির কর্ম-সমর্থক। সাধারণ বাসিন্দারা কেউ ডিম-হামলার মতো কাজে লিপ্ত হননি। এলাকাবাসীর উচ্ছ্বাসে অবশ্য তেমনটা মনে হল না। এলাকায় প্রচুর জনতা ভিড় করে নাচগান শুরু করেন। সকলের মত, তোলাবাজি, জমিদখলের মতো নানা অন্যায় অভিযুক্ত প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ ও তাঁর ছেলে। তাঁদের দাপটে নাজেহাল দশা হয়েছিল পানিহাটিবাসীর। তীর্থঙ্করের গ্রেপ্তারির পর এখন তাঁরা চাইছেন নির্মলকেও গ্রেপ্তার করা হোক। তবেই শান্ত হবে পানিহাটি।
ছাব্বিশের ভোটে পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্করের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই ছিল বিজেপির রত্না দেবনাথ ও সিপিএমের কলতান দাশগুপ্তর। তীর্থঙ্করের গ্রেপ্তারিতে খুশি তাঁরাও। এনিয়ে রত্না দেবনাথের বক্তব্য, ‘‘কান টানলে মাথা আসবে। কানের পর এবার আমরা মাথার অপেক্ষায় আছি।” কলতানের কথায়, ‘‘দুর্নীতি করেছেন, গ্রেপ্তার হয়েছেন, ঠিক আছে। আইন আইনের পথে চলবে। কিন্তু বিজেপির ছাতার তলায় গিয়ে যেন কোনও দোষী আইনের হাত থেকে ছাড়া না পায়, সেটা কঠোরভাবে দেখতে হবে।”