অ্যাকাউন্ট তহবিল মামলায় পার্টি করার আর্জি, ‘আসল তৃণমূলে’র আবেদন খারিজ হাই কোর্টের
প্রতিদিন | ১৩ জুলাই ২০২৬
অ্যাকাউন্ট নিয়ে চরম বিপাকে কালীঘাট-তৃণমূল। দফায় দফায় একের পর এক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে পুলিশ ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশে কিছুটা স্বস্তি মিললেও ইডি-র পদক্ষেপে বিপদ বেড়েছে আরও। এরই মধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল, তাই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অধিকার শুধুমাত্র তাঁদেরই রয়েছে। মামলায় তাঁদের পার্টি করার আর্জি জানানো হয়েছে। তবে সোমবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে সাড়া দিল না কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ।
নিম্ন আদালতের রায়কে হাতিয়ার করেই মূলত এদিন আদালতে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের কথা বলেন ঋতব্রতরা। এদিকে, ইডি-র আইনজীবী এস ভি রাজু সোমবার আদালতে বলেন, “গতকাল এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নিম্ন আদালত। সেটা গোপন রাখা হয়েছে আজ হাই কোর্টে।” এ কথা শুনে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন করেন, নিম্ন আদালতের এই মামলায় এদের (কালীঘাটপন্থী তৃণমূলকে) কি পার্টি করা হয়েছিল? (কালীঘাট) তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, “গোপন করার কথা হচ্ছে কেন? যেখানে এটা অর্ডার হয়েছে। কাউকে পার্টি করা হয়নি মামলায়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে। এরপরেও ইডি ফ্রিজ করেছে অ্যাকাউন্টগুলি।” বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার হলে কী হত? তিনটে এজেন্সি আসত? অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে দেরি করাতেই মামলা করা হয়েছে? আগে কমিশন ঋতদের অ্যাপ্রুভ করুক।”
উল্লেখ্য, কে আসল তৃণমূল, তা ঠিক করতে মমতা ও ঋতব্রত-দুই পক্ষের নথি গ্রহণ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এখনও কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। তবে নিম্ন আদালতের রায়কে হাতিয়ার করে সম্প্রতি ঋতব্রত নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন ঋতব্রত। মনু সিংভি বলেন, “আগে কমিশন তাদের আসল তৃণমূল বলুক। ২ জুলাই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ ছিল একটা কমিটি গঠন হবে। এর পরেও ৭ জুলাই ইডি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়। আজ যারা একমাত্র অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের দাবি করছে তারা ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েও আগে কোনও দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ করেনি।” অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে অভিযোগ নিয়ে আইনজীবী বলেন, “রাজনৈতিক দলকে ফ্রিজ করলে সেটি গণতন্ত্রের উপর হামলা হয়। রাজনৈতিক দল চাটার্ড ফ্লাইট ব্যবহার করে এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচনের সময় সব লেনদেন হয়েছে চেক পেমেন্টের মাধ্যমে।”
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তোলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকের কি ক্ষমতা আছে কোনও একজন ব্যক্তিকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়ার? ইডি এ ক্ষেত্রে পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়েছিল কি না, সেটাও জানতে চান বিচারপতি। এরপরই ইডির তরফে আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী বলেন, সিডিউলড অফেন্সের ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা নেই। এরপর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী বলেন, “আমরা নির্দেশ পেয়েছি নিম্ন আদালতের। আমরাই আসল তৃণমূল। আমরাই রিপ্রেজেন্ট করব তৃণমূলকে। আর কেউ নয়।” একথা শুনে বিচারপতি বলেন, “প্রপার অ্যাপ্লিকেশনে আসুন। আপনাদের কথা শুনতে চাই না।”