ইতালির ভেনিস নয়, এ বাংলার জলপাইগুড়ি!খাবার না জুটলেও চলে,কিন্তু এই গ্রামে লাগবেই থার্মোকলের নৌকা
News18 বাংলা | ১৩ জুলাই ২০২৬
: খাবার না থাকলেও চলে, নৌকা না হলে নয়, কেন এমন সিদ্ধান্ত গ্রামবাসীদের জানেন? এই গ্রামে বেঁচে থাকার জন্য খাবারের থেকেও বেশি প্রয়োজন নৌকো। তাই বর্ষার মরশুমে আগেভাগেই প্রস্তুতি সারছেন এনারা।
তিস্তায় জল বাড়লেই যে ঘরছাড়া হতে হয়, বাঁচার একমাত্র ভরসা থার্মোকলের নৌকা। ক্রান্তির গ্রামে বর্ষার আগেই শুরু যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি।
বর্ষা এলেই যেন আতঙ্ক নেমে আসে ক্রান্তি ব্লকের বাসুসুবা ও চাঁপাডাঙা গ্রামের বাসিন্দাদের জীবনে। তিস্তার জলস্তর বাড়লেই গ্রাম ডুবে যায় এক হাঁটু, কখনও কোমর সমান জলে। রাস্তাঘাট সব জলমগ্ন হয়ে পড়ে, বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যোগাযোগ ব্যবস্থা। তখন একমাত্র ভরসা নৌকা তাও আবার থার্মোকল দিয়ে তৈরি অস্থায়ী নৌকা। প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষার আগেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে ছোট-বড় থার্মোকলের নৌকা।
কারও বাজেট এক হাজার, কারও দুই হাজার, আবার কেউ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করছেন এই নৌকা বানাতে। কারণ, এই তিন মাসের জন্য এই নৌকাই হয়ে ওঠে জীবনরক্ষার একমাত্র উপায়। চিকিৎসা, বাজার, স্কুল—সবকিছুর জন্যই নির্ভর করতে হয় এই ভাসমান ভরসার উপর। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর একই সমস্যার সম্মুখীন হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তিস্তার জল বাড়লেই বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নিতে হয় বাঁধে। অনেক সময় দিনের পর দিন সেখানেই কাটাতে হয় পরিবার-পরিজন নিয়ে। ফলে, বর্ষা মানেই অনিশ্চয়তা, দুর্ভোগ আর লড়াই।
গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, “খাওয়া জুটুক আর না জুটুক, সারা বছর আমরা নৌকার জন্য টাকা জমাই। কারণ নৌকা না থাকলে এই তিন মাস পুরোপুরি জল বন্দি হয়ে থাকতে হয়।” এদিকে প্রশাসনের তরফে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হলেও, গ্রামবাসীদের দাবি, স্থায়ী বাঁধ মেরামত ও জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে না। ততদিন পর্যন্ত বর্ষা এলেই থার্মোকলের নৌকাই তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র সঙ্গী।