অবশেষে খোঁজ পাওয়া গেল সমুদ্রে মাছ শিকার হয়ে যাওয়া মা কালী ট্রলারের। নিখোঁজ থাকার প্রায় এক সপ্তাহ পর খোঁজ পাওয়া যায়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ওই ট্রলারে থাকা মৎস্যজীবীরা। রবিবার সন্ধ্যার পরনি খোঁজ ট্রলারটি উদ্ধার করে তিনটি ট্রলারের সাহায্যে সমুদ্র থেকে টেনে নিয়ে আসা হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জি প্লটে গোবর্ধনপুর থানার সীতারামপুর লঞ্চঘাটে। তারপর মৎস্যজীবীদের তল্লাশি চলে রাতভর ওই ট্রলারে। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় একের পর এক মৃতদেহ। কিন্তু সব মৎস্যজীবীদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে এখনও পর্যন্ত ন’জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকিদের খোঁজে এখনও তল্লাশি জারি রয়েছে। রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোবর্ধনপুর থানার পুলিশ, বনদফতর ও ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী মুক্তেশ্বরচরের কাছে একটি ডুবে থাকা ট্রলারকে শনাক্ত করে। পরে সেটিকে উদ্ধার করে গোবর্ধনপুরের সীতারামপুরে আনা হয়। রাতভর ট্রলার থেকে জল বের করে উদ্ধারকাজ চালিয়ে ট্রলারের ভিতর থেকে ন’জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
‘এফবি মা কালী’ নামের এই ট্রলারটি ২ জুলাই পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে ১৫ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে রওনা দিয়েছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে ট্রলারটি নিখোঁজ হয়ে যায় ৫ জুলাই। ট্রলারে মোট ১৫ জন মৎস্যজীবী ছিলেন। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোমবার মৃতদেহগুলির ময়নাতদন্ত হবে। ইতিমধ্যেই রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল সহ জেলা প্রশাসনের দল রওনা দিয়েছেন কাকদ্বীপের উদ্দেশ্যে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায় মোট ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকিদের খোঁজে এখনও তল্লাশি জারি রয়েছে। উপকূল রক্ষী বাহিনী ও সাধারণ প্রশাসনের যৌথ তল্লাশি চলছে। বাকিদের খুঁজে পেতে ড্রোন ও হেলিকপ্টার দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রলার খুঁজে পাওয়ার পর মৎস্যজীবী পরিবারগুলিতে কিছুটা আসার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে এই আশা ভঙ্গ হল। একদিকে খুঁজে পাওয়া মৃত মৎস্যজীবীর পরিবারে এখন স্বজন হারানোর শোকে ভারী হয়েছে পরিবেশ। অন্যদিকে এখনও নিখোঁজ থাকা মৎস্যজীবী পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে।