দার্জিলিং যাওয়ার রাস্তার এখন কী অবস্থা? পাহাড়প্রেমীদের জন্য সব বলে দিলেন জেলাশাসক
News18 বাংলা | ১৩ জুলাই ২০২৬
টানা ভারী বৃষ্টি আর একের পর এক ধসের জেরে গত কয়েকদিন ধরেই পাহাড়ের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে সেই আশঙ্কার মাঝেই স্বস্তির খবর শোনাল দার্জিলিং জেলা প্রশাসন। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ধসের ঘটনা ঘটলেও দ্রুত উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে অধিকাংশ জায়গায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিসংকর পানিকর। জেলাশাসক জানান, প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড়ের একাধিক এলাকায় ছোট-বড় ধস নেমেছিল। তবে প্রশাসন, পুলিশ, পূর্ত দফতর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত ধস সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে পাহাড়ের প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বড় কোনও সমস্যা নেই।
প্রশাসনের দাবি, বর্তমানে এনএইচ-১০, এনএইচ-১১০, পাংখাবাড়ি রোড এবং রোহিনী রোড-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কেই যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও দীর্ঘ সময়ের জন্য রাস্তা বন্ধ থাকার পরিস্থিতি নেই। যেসব এলাকায় ধসের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলেই সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করা হচ্ছে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত না হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন কোনওরকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। সেই কারণেই ডিস্ট্রিক্ট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে। সেখানে সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য হেল্পলাইনও চালু রয়েছে। যেকোনও জরুরি পরিস্থিতির খবর পেলেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে দ্রুত জানানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জেলাশাসক আরও জানান, গতকাল রাত ১২টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সময় প্রশাসনের প্রতিটি স্তর সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ছিল। ব্লক প্রশাসন, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং অন্যান্য দফতরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির আপডেট নেওয়া হয়েছে। ভোরের পর আবারও বিভিন্ন এলাকা থেকে ফিডব্যাক সংগ্রহ করে কোথাও নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে।
এদিকে যেসব এলাকা ভূমিধস বা জলধসের দিক থেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়বাসী এবং পর্যটকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রেখে প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে। জেলাশাসক স্পষ্ট করে জানান, পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। মানুষের নিরাপত্তাই এখন জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।