‘ওষুধের নামই মনে নেই!’ ৬০ বছর ধরে রিকশা টেনেই বার্ধক্যকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন রানাঘাটের ঝেলো
News18 বাংলা | ১৩ জুলাই ২০২৬
: সময় বহমান, আর সেই সময়ের চাকাতেই বদলে গেছে জনজীবনের চেনা ছবিটা। একসময় মফস্বল বা শহরের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল মানুষের পায়ে টানা রিকশা। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ সেই রিকশার জায়গা দখল করেছে ব্যাটারি চালিত টোটো, অটো কিংবা ই-রিকশা। যান্ত্রিক গতি আর আরামের যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে রিকশা শিল্প। কিন্তু এই তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারেও ব্যতিক্রম রানাঘাট শহর। যেখানে টোটোর দাপটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, বুক চিতিয়ে আজও নিজের রিকশা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অশীতিপর বৃদ্ধ ঝেলো দাস। বয়স তাঁর ৮০-র দোরগোড়ায়। যখন রিকশার ভাড়া ছিল মাত্র চার আনা, সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৬০ বছর ধরে রানাঘাটের রাস্তায় রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে চলেছেন তিনি।
এই বয়সে যেখানে অধিকাংশ মানুষই বার্ধক্যের অবসরে দিন কাটান, সেখানে ঝেলো দাস পরিশ্রমকেই তাঁর বেঁচে থাকার মূল চালিকাশক্তি করে নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বাড়িতে বসে থাকার পাত্র তিনি নন। আর এই অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই আজও রোগবালাই তাঁর শরীর ছুঁতে পারেনি, ওষুধ কবে খেয়েছেন তাও মনে নেই তাঁর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রিকশা মেরামতের মিস্ত্রি কমে গেলেও ঝেলো দাসের তাতে কোনও চিন্তা নেই; কারণ নিজের রিকশা তিনি নিজেই সারিয়ে নিতে পারেন। এই রিকশাকে তিনি কোনও জড় বস্তু নয়, বরং নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসেন। এর উপার্জনেই মেয়েকে বড় করেছেন, ধুমধাম করে বিয়েও দিয়েছেন।
আজকের যুগে টোটো চালকদের আয় যেখানে দিনে ২০০-২৫০ টাকা, সেখানে রিকশা চালিয়ে আয় হয়ত আরও কম। রিকশায় যাত্রী ধরে সর্বোচ্চ দুজন, তাও জোটে অল্প অল্প। তবুও টোটোর সহজ আরামের চেয়ে নিজের পায়ে টানা রিকশাতেই পরম শান্তি খুঁজে পান ঝেলো দাস। শহরের বহু চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী তাঁর এই রিকশা। যতই আধুনিক যানের ভিড় বাড়ুক না কেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের এই অযান্ত্রিক ‘জগদ্দল’ তথা রিকশাকে সঙ্গী করেই সততা ও পরিশ্রমের পথে এগিয়ে যেতে চান রানাঘাটের এই চিরসবুজ লড়াকু সৈনিক।