ইউপিআই, এটিএম ছাড়াই খালি হতে পারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, নিজেকে বাঁচাতে এখনই জানুন
News18 বাংলা | ১৩ জুলাই ২০২৬
মোবাইলের ওপরেই নির্ভর করছিল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। আর সেই মোবাইল খোয়া যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই উধাও হয়ে গেল শেষ বয়সের সম্বল। সাইবার প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে শান্তিপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীরাম গাঙ্গুলী লেনের বাসিন্দা, প্রবীণ কৃষক শৈলেন চণ্ডী এখন দিশেহারা। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস ধরে শান্তিপুর থানা, সাইবার ক্রাইম বিভাগ ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দরজায় দরজায় ঘুরেও মেলেনি কোনও সুরাহা। উদ্ধার হয়নি কষ্টার্জিত ৮৩,২৪৪ টাকাও। রাসায়নিক সার বর্জন করে, পরিবেশ রক্ষা ও কৃষিজমির ভারসাম্য বজায় রাখতে দীর্ঘদিন ধরে ভেষজ পদ্ধতিতে দেশীয় বীজ নিয়ে বিকল্প চাষ করছেন শৈলেনবাবু।
স্রোতের বিপরীতে হেঁটে পরিবেশবান্ধব কৃষিকাজে এই অবদানের জন্য ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক থেকে ‘জাতীয় পুরস্কার’-এ ভূষিত হন এই কৃষক। কিন্তু জীবনের শেষবেলায় এসে ডিজিটাল ভারতের এক অন্ধকার অধ্যায়ের মুখোমুখি হতে হল তাঁকে। চলতি বছরের ২৯ মার্চ হঠাৎই মোবাইলটি খোয়ান শৈলেনবাবু। ওই দিনই তিনি শান্তিপুর থানায় একটি লিখিত ডায়েরি করেন। মোবাইল এবং নির্দিষ্ট সিমটির সঙ্গে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করা থাকায় তিনি দ্রুত বিকল্প সিমের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু নতুন সিমটি হাতে আসতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তাঁর। মোবাইলের মেসেজ ঘেঁটে জানতে পারেন, ৩১ মার্চ দুটি দফায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে যথাক্রমে ৬ হাজার ও ৪ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ১ এপ্রিল তিনি শান্তিপুর থানা এবং সাইবার ক্রাইম বিভাগে আলাদা আলাদা অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। পরের দিনই, অর্থাৎ ২ এপ্রিল, অন্য আরেকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে ১২টি ট্রানজেকশনের মাধ্যমে এক লপ্তে উধাও হয়ে যায় ৭১ হাজার টাকা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, শৈলেনবাবুর যে দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লুট হয়েছে, তার কোনওটিতেই অনলাইন লেনদেনের সুবিধা চালু ছিল না। এমনকী তাঁর কোনও এটিএম কার্ডও ছিল না। কীভাবে এটিএম বা অনলাইন ব্যাঙ্কিং ছাড়া এই বিপুল পরিমাণ টাকা ডিজিটাল উপায়ে জালিয়াতি করা হল, তা ভেবে কূল পাচ্ছেন না খোদ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও।
টাকা খোয়া যাওয়ার পর ধাপে ধাপে দুই ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, নোডাল অফিসার, সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্ট এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মেন ব্রাঞ্চেও লিখিতভাবে জানান শৈলেনবাবু। পরবর্তীতে আরও একবার করে রিমাইন্ডার দেওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসেও দোষীদের চিহ্নিত করা যায়নি। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই প্রবীণ নাগরিক।কান্নাভেজা গলায় বৃদ্ধ শৈলেনবাবু প্রশ্ন তোলেন, “চাষের ক্ষেত্রেও যারা হাইব্রিড এবং কেমিক্যাল ব্যবহার করে বিজ্ঞানকে অপব্যবহার করে সাময়িক লাভবান হচ্ছেন, সাইবার অপরাধীরাও তো ঠিক তেমনই বিজ্ঞানের অপব্যবহার করছে। প্রশাসন ও ব্যাঙ্কের এই উদাসীনতায় বৃদ্ধ বয়সে লক্ষাধিক টাকার সঞ্চয় হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই প্রগতিশীল কৃষক।