বদ্রীনাথ মন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রমোদ নৌটিয়াল। তিনি বদ্রী-কেদার টেম্পল কমিটি (BKTC)-র কর্মী ছিলেন। অনুদান চুরির অভিযোগ সামনে আসায় প্রথামিক ভাবে অনুসন্ধান করে BKTC কমিটি। তার পরেই কমিটি সাসপেন্ড করে ওই কর্মীকে। রবিবার জিজ্ঞাসাবাদের পরে দেরাদুন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। পুলিশ জানিয়েছে, মন্দিরে VIP অতিথিদের থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচের বিলে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ মিলেছে। সেই ঘটনার তদন্তেই পদক্ষেপ করা হয়েছে BKTC-র কমিটির ওই কর্মীর বিরুদ্ধে।
উত্তরাখণ্ডের পর্যটন ও ধর্মীয় বিষয় দপ্তরের উপ সচিব অনিল কুমার পাণ্ডে ২৫ জুন BKTC-কে এক চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে বদ্রীনাথ মন্দিরে চুরির অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল। চিঠিতে আরও বলা হয়েছিল, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই মন্দিরের তহবিল থেকে অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়েছিল, যা বেআইনি। ঘটনায় কেদারনাথের তৎকালীন ম্যানেজার, তৎকালীন চিফ ইন-চার্জ অফিসার এবং তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার পরেই উত্তরাখণ্ড সরকার ১৯৩৯ সালের বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
২ জুলাই বদ্রীনাথ মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান গোনার সময়ে চুরির ঘটনা প্রথম সামনে আসে। এক স্বেচ্ছাসেবী এক সংস্থার তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করা হয়েছিল। তার পরেই নড়েচড়ে বসে মন্দির পরিচালনকারী সংস্থা বদ্রী কেদার টেম্পল কমিটি (BKTC)। ঘটনায় কমিটির পক্ষ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, টাকা গোনার জায়গা থেকে নগদ টাকা সরানো হয়েছিল। ঘটনায় মন্দির কমিটির ইন-চার্জ যুদ্ধবীর পুষ্পবান বদ্রীনাথ থানায় একটি FIR দায়ের করেন।
পুলিশ মন্দিরের সিসিটিভি কন্ট্রোল অফিসার পনওয়ার এবং টাকা গোনার সময়ে উপস্থিত হরেন্দর কোঠারির বয়ান রেকর্ড করেছে। অন্যদিকে, বরখাস্ত কর্মী প্রমোদ নৌটিয়াল সমস্ত অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিচারপতি আলোক মেহরা এই বিষয়ে মন্দির কমিটির জবাব চেয়েছেন। আগামী ১৬ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।