বিরল প্রজাতির ‘অস্ট্রেলিয়ান গ্রাস আউল’-র দেখা মিলল অসমের তিনসুকিয়ায়। ১১ জুলাই, শনিবার দিল্লি থেকে আসা একদল পর্যটকের নজরে আসে এই পেঁচা। তিনসুকিয়ার বিখ্যাত মাগুড়ি মোটাপুং বিলে দেখা মিলেছে এই পেঁচার। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ওই এলাকায় নজর রাখছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এবং পাখিপ্রেমীরা।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ঘটনা ফের প্রমাণ করে দিয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারত জীববৈচিত্র্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। তবে সচরাচর এই বিরল প্রজাতির পেঁচা দেখতে পাওয়া যায় না। স্থানীয় পরিবেশবিদদের মতে, এই প্রজাতির পেঁচা সাধারণত লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে বেশি পছন্দ করে। তারা মূলত ঘন তৃণভূমিতে বাস করে। ফলে এদের সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে মাগুড়ি মোটাপুং বিলে সম্প্রতি দেখা মিলেছে এই পেঁচার। সেই কারণে বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করছেন।
মাগুড়ি মোটাপুং বর্তমানে ভারতের অন্যতম সেরা পাখিরালয় হিসেবে জনপ্রিয়। সারা দেশ থেকে বহু পাখিপ্রেমী, বিশেষজ্ঞ, বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী (Wildlife Photographer) এবং পর্যটকরা এখানে ছুটে আসেন। এখানকার জলাভূমি, জলাশয় এবং তৃণভূমি শত শত স্থানীয় ও পরিযায়ী পাখির বাসস্থান। পাখি সংরক্ষণের জন্য এই জায়গা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিরল প্রজাতির পেঁচার উপস্থিতি প্রমাণ করে এই জলাভূমির পরিবেশগত গুরুত্ব কতটা বেশি। একই সঙ্গে মানুষের নানা কর্মকাণ্ড এবং পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে এই ঘটনা। পরিবেশবিদদের বিশ্বাস, বিরল বন্যপ্রাণীর সন্ধান মেলায় মাগুড়ি মোটাপুং বিলের নাম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আরও জনপ্রিয় হবে। এর ফলে এই অঞ্চলে আরও বেশি গবেষণা ও নজরদারি চালানো সম্ভব হবে।