• বাগজোলা খাল থেকে উদ্ধার হওয়া দেহ কেষ্টপুরের নিখোঁজ ইঞ্জিনিয়ারের? ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় পুলিশ
    এই সময় | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ কেষ্টপুর রবীন্দ্রপল্লির বাসিন্দা পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অরিন্দম সেন। শেষবার তাঁকে কেষ্টপুরের বাগজোলা খালের কাছে দেখা গিয়েছিল। শনিবার থেকেই বাগজোলা খালে তল্লাশি শুরু করেন বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা। তিন দিনের তল্লাশির পরে যাত্রাগাছি এলাকা থেকে একটি দেহ উদ্ধার হয়। যদিও সেই দেহটি অরিন্দমের কি না সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের ডেকে দেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সোমবার যাত্রাগাছি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা খালের জলে একটি দেহ ভাসতে দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে। তদন্তকারীদের অনুমান, কেষ্টপুরের বাগজোলা খাল থেকে ভেসে এসে দেহটি যাত্রাগাছি এলাকায় পৌঁছেছে।

    উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে কেষ্টপুরের রবীন্দ্রপল্লি এলাকার বাসিন্দা অরিন্দম সেন রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হন। পরিবারের দাবি, তিনি বাড়ি থেকে একটি লাল রঙের ব্যাগ ও একটি চায়ের ফ্লাস্ক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের আর কোনও যোগাযোগ হয়নি। দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে জানা যায়, কেষ্টপুরের বাগজোলা খালের ধারে তাঁকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। তিনি খালে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট) কর্মীরা শনিবার রাত থেকেই বোট নামিয়ে খালে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। টানা তিন দিন ধরে চলে সেই অনুসন্ধান। অবশেষে সোমবার যাত্রাগাছি এলাকায় একটি দেহ উদ্ধার হওয়ায় তা নিখোঁজ অরিন্দম সেনের হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত অরিন্দম সেনের চাকরি চলে যায়। এরপর থেকেই তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে দাবি। সেই কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে অনুমান। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং দেহ শনাক্তকরণের পরই তদন্ত আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করে করছে বাগুই আটি থানার পুলিশ। ডিজিটাল প্রফেশনাল অ্যান্ড অ্যালায়েড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের (DPAWU) এর পক্ষ থেকে এই  ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)