• ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতে CPIM নেতা লাহেক আলি
    এই সময় | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • বারুইপুর কাণ্ডে প্রতিবাদের সময়ে অবরোধ, ভাঙচুর ও হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল বারুইপুর মহকুমা আদালত। ২১ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে থাকবেন তিনি।

    বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা পরে যে প্রতিবাদ-আন্দোলন হয়েছিল, তাতে সামনের সারিতে দেখা গিয়েছিল ওই এলাকার সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে। সেই সময়ে রাস্তা অবরোধ, পুলিশের উপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ৫ জুলাই অর্থাৎ যে দিন ঘটনাটি ঘটেছিল, সেই সময়ে ঘটনাস্থলে লাহেক আলি উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর উস্কানিতেই ওই ঘটনা ঘটেছিল বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।

    বারুইপুরে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পরে রাস্তা অবরোধ করা হয়েছিল। প্রবল বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন সাধারণ বাসিন্দারা। রেল অবরোধ করা হয়েছিল। বিক্ষোভের ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছিলেন। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সন্দেহের বশে পিটিয়ে মারা হয়েছিল ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবককে। সেই ঘটনায় যাঁরা দোষী তাঁদের ছাড়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছিেলন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাঁরা ভোটে হেরে গিয়েছে, তাঁরাই উস্কানি দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। লাহেক আলি বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। প্রাথমিক ভাবে ওই ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছে তাঁর।

    এ দিন পুলিশ ভ্যান থেকে লাহেক আলি অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে সব অভিযোগই মিথ্যা। রাজনৈতিক কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে গ্রেপ্তারি। যখন গণপিটুনি হয়েছে, লাহেক আলি তার পরে ওখানে পৌঁছেছে। সরকার ভয় পেলে যে ভাবে ভয় দেখায়, সে ভাবেই ভয় দেখাচ্ছে। যদি তদন্তের আগেই নির্দোষ বলে দেওয়া হয়, কে দোষী কার কত বড় অপরাধ তা বলা হয়, সেটা আইনের শাসন নয়।’

    লাহেক আলির হয়ে মামলা লড়া আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তিনি জানান, ৯ জুলাই হাইকোর্টে মামলা করেন লাহেক। ১১ জুলাই সেই চিঠি বারুইপুর থানায় এসে পৌঁছনোর পরে ১২ জুলাই নতুন অভিযোগ দায়ের করে সেই দিনই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, জনতাকে চুপ করতে বলছেন লাহেক আলি। পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশ কর্মী।

    সোমবার কড়া নিরাপত্তায় বারুইপুর আদালতে সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে নিয়ে যায় পুলিশ, মাথায় হেলমেট পরানো ছিল। রবিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ দিন আদালত চত্বরে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-সহ একাধিক পুলিশ আধিকারিক, বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন ছিল। সকাল ১০টার মধ্যেই নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে আদালত চত্বরে নিয়ে আসা হয়। প্রিজ়ন ভ্যান থেকে নামানোর সময় মাথায় হেলমেট পরিয়ে আদালতের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় লাহেক আলিকে।

  • Link to this news (এই সময়)