‘ঘটনাস্থলে তো আমি ছিলামই না’, তাও কুণালের জরিমানা!
আজকাল | ১৪ জুলাই ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৫ সালে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, আইনজীবী ফিরদৌস শামিমদের চেম্বার ঘিরে বিক্ষোভ এবং আইনজীবীদের হেনস্থার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বেঞ্চ বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং বিক্ষোভকারী উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যেককে ২০০০ টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে।
এই বিষয়ে কুণাল বলেন, “ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। ঘটনা নিন্দা করেছি তাও আমায় জরিমানা করা হয়েছে। আমি বিচারকদের সম্মান করে চলি। চাকরিপ্রার্থীদের কয়েকজনের উত্তেজনাবশত ঘটনাটি ঘটে। আমায় ২০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আমি আইন মেনে চলি। বহু বিষয়ে কোর্টে যেতে হয়। তিনজন মহামান্য বিচারপতির বেঞ্চ যখন জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের অর্ডার পর্ব এবং আইনিভাবে যা যা করার তা করব।”
২০২৫ সালে এসএসসির শারীরশিক্ষা এবং কর্মশিক্ষা বিষয়ে অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেনিয়মের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। মামলা লড়েছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এরপরেই বিকাশের চেম্বারের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। তারপর তাঁরা সিটি সিভিল আদালতের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। সেখানে বিকাশের দুই জুনিয়র ফিরদৌস শামিম এবং সুদীপ্ত দাশগুপ্তের চেম্বার রয়েছে। তার নীচে অবস্থান শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও হাইকোর্টে নিয়োগ মামলার অগ্রগতি কেন হচ্ছে না, এই প্রশ্ন তুলে রাতে বিকাশের চেম্বারের বাইরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের নিশানায় ছিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুও। বিক্ষোভকারীর অভিযোগ করেন যে, বিকাশের সঙ্গে ‘আঁতাঁত’ রয়েছে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর। বিচারপতির বিরুদ্ধেও আপত্তিকর মন্তব্য এবং স্লোগানেরও অভিযোগ ওঠে। প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমও এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপরেই কলকাতা হাই কোর্টে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের হয়। সেই মামলাতেই কুণালদের জরিমানা করল তিন সদস্যের বেঞ্চ।