• এসেও আসছে না বর্ষা! বৃষ্টির অভাবে মাথায় হাত আমন চাষিদের
    আজ তক | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • মেঘ আছে। বৃষ্টিও হচ্ছে। কিন্তু বর্ষা বলতে যে একটানা বৃষ্টির ব্যাপারটা হয়, সেটা কি হচ্ছে? দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে এখনও সেই বর্ষার দেখা নেই। ভরা মরসুমেও বৃষ্টির এই চরম খামখেয়ালিপনায় আমন ধান চাষে বড়সড় বিপর্যয়ের মেঘ ঘনিয়ে আসছে। স্বাভাবিক বৃষ্টি না হওয়ায় ধানের উৎপাদন ব্যাপক মার খাওয়ার আশঙ্কা করছেন প্রান্তিক চাষিরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন রাজ্য কৃষি দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও।

    সাধারণত, বাংলার কৃষিতে আমন ধানের ফলন পুরোপুরি প্রকৃতির নিয়ম এবং বর্ষার জলের ওপর নির্ভরশীল। সেই কারণেই জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মাঠ জুড়ে বীজতলা তৈরির ধুম পড়ে যায়। কিন্তু এ বছর জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পার হতে চললেও বৃষ্টির ঘাটতি মেটেনি।  

    শুকনো মাটিতে হলদেটে চারা, নষ্ট হচ্ছে বীজতলা
    কৃষি দপ্তরের বিশেষজ্ঞদের মতে, আমন চাষের প্রথম ধাপ হলো সঠিক সময়ে পরিপুষ্ট বীজতলা তৈরি করা। জুনের শুরু থেকে নদীয়া, হুগলি বা হাওড়ার নিচু জমিগুলিতে কৃষকেরা বীজ ফেলেন। কিন্তু এবার অনাবৃষ্টির জেরে সেই সব বীজতলা জলের অভাবে মাঠেই শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক চাষি নিজেদের উদ্যোগে সাবমার্সিবল পাম্প চালিয়ে বা কৃত্রিম সেচের মাধ্যমে কোনও রকমে চারা বাঁচিয়ে রেখেছেন। কিন্তু ভরা বর্ষার জলে যে গ্রোথ হয়, আর্টিফিসিয়াল পদ্ধতিতে সেই বৃদ্ধি হয় না বলেই মত কৃষিজীবীদের। এই দুর্বল চারাগাছ জমিতে রোপণ করলে তা থেকে ভাল ফলন পাওয়া অসম্ভব বলেই মত কৃষিবিজ্ঞানীদের।

    হুগলির বৈঁচিগ্রামের অভিজ্ঞ ধানচাষি অসিত পাল নিজের অসহায়তা উগরে দিয়ে বলেন, 'ধানের বীজতলা তো আমরা কষ্ট করে তৈরি করেছি। কিন্তু সেই চারা তুলে মূল জমিতে বসানোর জন্য ক্ষেতে অন্তত বেশ কয়েক ইঞ্চি জল দাঁড়িয়ে থাকা দরকার। সাবমার্সিবল চালিয়ে কি বিঘার পর বিঘা জমিতে অত জল ধরে রাখা সম্ভব? সেচের খাল থাকলেও, বৃষ্টি না হলে খালে জল আসবে কোথা থেকে? এখন আকাশের দিকে চেয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকা ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় নেই।'

    উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা 
    কৃষি আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝি এসেও যদি ধান রোয়ার (রোপণ) কাজ পুরোদমে শুরু না করা যায়, তবে ধানের শিষ দেরিতে বেরোবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে চালের গুণগত মানের ওপর। ধান ততটা পুষ্ট ও ভারী হবে না। যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটানা ভারী বৃষ্টিপাত না হয়, ত আমন চাষে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।   
  • Link to this news (আজ তক)