দেশে প্রতিদিন বন্ধ হচ্ছে গড়ে ১৩টি স্কুল, পশ্চিমবঙ্গে ছবিটা কেমন? কেন্দ্রের রিপোর্ট
আজ তক | ১৪ জুলাই ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে স্কুলের সংখ্যা কমলেও ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তি বেড়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস (UDISE+) ২০২৫-২৬ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই রাজ্যে স্কুলের সংখ্যা ০.৬ শতাংশ কমেছে। কিন্তু একই সময়ে ভর্তি বেড়েছে ৩.৮ শতাংশ। দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যের মতোই পশ্চিমবঙ্গেও কম সংখ্যক স্কুলে এখন আগের তুলনায় বেশি পড়ুয়া পড়াশোনা করছে।
দেশের সামগ্রিক ছবিও প্রায় একই রকম। UDISE+ রিপোর্ট বলছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশে মোট স্কুলের সংখ্যা ছিল ১৪.৭১ লক্ষ। ২০২৫-২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪.৬৬ লক্ষে। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ৫ হাজার স্কুল কমে গিয়েছে। হিসেব করলে দেখা যায়, গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩টি করে স্কুল দেশের শিক্ষা নেটওয়ার্ক থেকে হারিয়ে গিয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের ফলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমেনি। বরং একই সময়ে দেশে মোট ভর্তি বেড়েছে প্রায় ২.৯ লক্ষ।
রিপোর্টে উল্লেখ, এই প্রবণতা দেশের সব রাজ্যে একরকম নয়। মোট ১৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্কুলের সংখ্যা কমলেও ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তি বেড়েছে। অর্থাৎ কম সংখ্যক স্কুলে বেশি সংখ্যক পড়ুয়া ভর্তি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ এই তালিকার অন্যতম। বিশেষজ্ঞদের মতে,এর পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। ছোটো বা কম ছাত্রসংখ্যার স্কুলে একীভূত হওয়া, পরিকাঠামোগত পরিবর্তন, অথবা সরকারি স্কুলে ভর্তির প্রবণতা বৃদ্ধি- সব মিলিয়েই এই চিত্র তৈরি হতে পারে। যদিও UDISE+ রিপোর্ট এই পরিবর্তনের কারণ আলাদা করে ব্যাখ্যা করেনি।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন খুব বড় না হলেও তা উল্লেখযোগ্য। মাত্র ০.৬ শতাংশ স্কুল কমলেও ভর্তি বৃদ্ধির হার ৩.৮ শতাংশ। ফলে প্রতি স্কুলে গড় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১৮২ থেকে বেড়ে ১৯০ হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি স্কুলে আগের তুলনায় আরও বেশি পড়ুয়া লেখাপড়া করছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক সংখ্যা এবং পরিকাঠামোর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে বাস্তবে এর প্রভাব নির্ভর করবে কোন এলাকায় স্কুল কমেছে এবং কোথায় ভর্তি বেড়েছে, তার উপর।
সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন দেখা গিয়েছে মেঘালয়ে। সেখানে এক বছরে স্কুলের সংখ্যা ২১.৪ শতাংশ কমে গিয়েছে, অথচ ছাত্রছাত্রীর ভর্তি বেড়েছে ৪.৫ শতাংশ। ফলে প্রতি স্কুলে গড় পড়ুয়ার সংখ্যা ৭৩ থেকে বেড়ে ৯৭-এ পৌঁছেছে। দেশের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হিসেবে উঠে এসেছে।
একই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে তেলেঙ্গানাতেও। সেখানে স্কুলের সংখ্যা ৩.২ শতাংশ কমলেও ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তি বেড়েছে ২.৯ শতাংশ। এর ফলে প্রতি স্কুলে গড় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৭৩ থেকে বেড়ে ১৮৪ হয়েছে।
তবে দেশের সব জায়গায় একই ছবি নয়। ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে উল্টো প্রবণতা দেখা গিয়েছে। সেখানে স্কুলের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু ছাত্রছাত্রীর ভর্তি কমেছে। দিল্লিতে স্কুলের সংখ্যা ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও ভর্তি কমেছে ১ শতাংশ। ফলে প্রতি স্কুলে গড় পড়ুয়ার সংখ্যা ৮০৮ থেকে কমে ৭৮৮-এ নেমেছে। বিহারেও স্কুলের সংখ্যা ১ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু ভর্তি কমেছে ২.১ শতাংশ। একই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, পুদুচেরি এবং চণ্ডীগড়েও।
UDISE+ রিপোর্ট দেশের স্কুলশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করছে। শুধুমাত্র স্কুলের সংখ্যা বাড়া বা কমাই শিক্ষার মানের একমাত্র সূচক নয়। বরং কোন রাজ্যে কত পড়ুয়া কোন ধরনের স্কুলে ভর্তি হচ্ছে, স্কুলগুলির সক্ষমতা কতটা এবং পরিকাঠামো সেই চাপ সামলাতে পারছে কি না—এসব বিষয়ই আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও সেই বৃহত্তর জাতীয় প্রবণতারই একটি অংশ।