বাঁশ থেকে তামা-পিতলের ১২৫ বছরের লোহার রথ! কালিয়াচকের জোরকদমে চলছে রথযাত্রার ঐতিহাসিক প্রস্তুতি
News18 বাংলা | ১৪ জুলাই ২০২৬
: গৌড়ের সুলতানি আমলের ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে আজও পালিত হচ্ছে মালদহ জেলার কালিয়াচক থানার জালালপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা। গ্রামবাসীদের দাবি, প্রায় ৬৩০ বছর আগে এই রথযাত্রার সূচনা হয়। গৌড়ের রামকেলিতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আগমনের পর থেকেই জালালপুরে এই রথ উৎসবের প্রচলন হয়। সেই ঐতিহ্য আজও একই নিয়ম-নিষ্ঠায় পালন করে চলেছেন এলাকার মানুষ। ইতিহাসের সাক্ষী এই রথযাত্রায় প্রথমদিকে বাঁশের তৈরি রথ ব্যবহার করা হত। পরে কাঠের রথ নির্মাণ করা হয়।
সময়ের সঙ্গে গ্রামবাসীদের উদ্যোগে তৈরি হয় বর্তমানের প্রায় ৫০ ফুট উঁচু লোহার রথ। রথের বিভিন্ন অংশে পিতল ও তামার কারুকাজ রয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, বর্তমান রথটির বয়সও প্রায় ১২৫ বছর। রথযাত্রা কমিটির সম্পাদক গৌতম মণ্ডল জানান, “রথযাত্রার দিন প্রথমে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দির থেকে দেবতাদের শোভাযাত্রার মাধ্যমে এনে বিশেষ পুজা করা হয়। এরপর দেবতাদের রথে প্রতিষ্ঠা করে মাসির বাড়ির উদ্দেশে রথ টানা হয়। প্রায় ২০০ মিটার পথ অতিক্রম করে রথ মাসির বাড়িতে পৌঁছয় এবং সেখানে সাত দিন অবস্থান করে। রথযাত্রার প্রথম দিন থেকে উল্টো রথ পর্যন্ত মোট নয় দিন ধরে চলে পুজা, নামকীর্তন, ভোগ বিতরণ এবং ঐতিহ্যবাহী মেলা।”
রথযাত্রা কমিটির সদস্য অভিজিৎ রজক বলেন, “সুলতানি আমল থেকেই এই রথযাত্রা চলে আসছে বলে শুনে আসছি। বহু বছর প্রশাসনিক জটিলতায় মেলা বন্ধ থাকলেও এবার প্রশাসনের সহযোগিতায় আবারও মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে লক্ষাধিক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগমের আশা করা হচ্ছে।” গ্রামবাসী কল্যাণী কর্মকারের কথায়, “জালালপুরের রথের মেলা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের গ্রামের ঐতিহ্য। বহু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই উৎসব দেখতে আসেন।”
আগামী ১৬ জুলাই রথযাত্রা উপলক্ষে ইতিমধ্যেই জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। মন্দির প্রাঙ্গণ ও রথ সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। জেলার অন্যতম প্রাচীন এই রথযাত্রাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা ও লোকঐতিহ্যের অপূর্ব মেলবন্ধন হিসেবে জালালপুরের রথযাত্রা আজও মালদহের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।