আদালতে বারুইপুর কাণ্ডে ধৃত CPIM নেতা! পক্ষে ২০ আইনজীবী, বিপক্ষে ৩০, এজলাসে চরম উত্তেজনা
News18 বাংলা | ১৪ জুলাই ২০২৬
বারুইপুরের সূর্যপুরে দীপঙ্কর মণ্ডলকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার CPIM নেতা লাহেক আলিকে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল বারুইপুর মহকুমা আদালত। তবে এদিন সিপিএম নেতাকে আদালতে পেশ করা হলে এজলাসের ভিতরেই আইনজীবীদের মধ্যে বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়, বাধ্য হয়ে শুনানি স্থগিত রাখেন বিচারক৷ পরে হয় নির্দেশ ঘোষণা৷
সোমবার বেলা সাড়ে ৩টে নাগাদ বারুইপুর আদালতে ওঠে মামলা। কিন্তু দুই পক্ষের আইনজীবীদের তীব্র বাদানুবাদের জেরে শুনানি পিছিয়ে যায়। অভিযুক্তের পক্ষে ২০ জন, আর অভিযোগকারীর পক্ষে একসঙ্গে ৩০ জন আইনজীবী আদালতে হাজির হন। এজলাসে উত্তেজনা চরমে উঠলে বিকেল ৩ বেজে ৫৫ মিনিট নাগাদ৷ একটা সময়ে বিচারক বলতে বাধ্য হন, ‘‘এভাবে চিৎকার করলে মামলা শুনব না।’’
অভিযুক্তের আইনজীবীদের দাবি, ‘‘এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। ঠান্ডা মাথায় ফাঁসানো হচ্ছে। গত ১২ জুলাই একটি মামলা হয়েছিল। এই ঘটনায় মোট দু’টি মামলা হয়েছে। আজ একজনের নাম, কাল অন্য একজনের নাম। কাল FIR, কালই গ্রেফতার। যখন মামলা হয়েছে তখন লাহেক আলির নাম ছিল না। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি ওঠার পরেই নাম জোড়া হয়েছে।’’
অন্যদিকে, অভিযোগকারীর আইনজীবীদের বক্তব্য, ‘‘একসঙ্গে পাঁচ জায়গায় ঘটনা ঘটেছে। লাহেক আলির উস্কানিতেই নিরীহ যুবকের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে। পুলিশকে মারা হয়েছে, ঘর ভাঙা, আগুন, পুলিশের উপর হামলা হয়েছে।’’ আইনজীবী গৌতম চক্রবর্তী বলেন, ‘‘তদন্ত চলাকালীন অভিযোগ করা যাবে না এমন কোনও নিয়ম নেই। যে ধারাগুলি দেওয়া হয়েছে সবই প্রযোজ্য।’’
বারুইপুর থানার পুলিশ এদিন আদালতে জানায়, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ২৭টি মামলা হয়েছে। তদন্তে কারও উস্কানি প্রমাণিত হলে তিনিও অভিযুক্ত হবেন। সমস্ত যুক্তি শোনার পর বিচারক লাহেক আলিকে ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত চত্বরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা।