• পেশা ছিল গাড়ি চালান, নেশা বন্যপ্রাণ রক্ষা! জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৭ বছর ধরে সাপ বাঁচাচ্ছেন পিন্টু
    News18 বাংলা | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন থানার অন্তর্গত শোলাকিয়া এলাকা। এই গ্রামেরই বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সি পিন্টু ধুয়া। পেশায় তিনি একসময় ছিলেন একজন দক্ষ গাড়িচালক। ২০০৬ সাল থেকে গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরিয়েই তাঁর পরিবারের রুটিরুজি চলত। কিন্তু পেশার বাইরে তাঁর একটি অন্য রূপও রয়েছে। কী সেই রূপ?

    বরাবরই বিভিন্ন পশু-পাখি ও অবলা প্রাণীর প্রতি তাঁর অগাধ টান। তাদের যেকোনও মূল্যে বাঁচানোই তাঁর অন্যতম নেশা। আর সেই নেশা থেকেই আজ তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের অন্যতম ভরসা এবং বন্যপ্রাণের রক্ষক। দীর্ঘ সাত বছর ধরে নিজের অদম্য সাহস ও জেদকে সঙ্গী করে সাপ উদ্ধারের কাজ করে চলেছেন তিনি।

    সাপের নাম শুনলেই সাধারণ মানুষ আতঙ্কে শিউরে ওঠেন। লোকালয়ে বা বাড়িতে সাপ ঢুকে পড়লে ভয় ও অজ্ঞতার কারণে বেশিরভাগ মানুষই সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। নিরীহ এই সরীসৃপদের অকালমৃত্যু আটকাতেই মূলত পিন্টুর এই উদ্যোগ।

    আরও পড়ুন: ‘জল’ খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি জানেন? আগে, পরে, নাকি খাবারের মাঝে? কী বলছেন চিকিৎসক ঋষি মজুমদার

    প্রথম দিকে এই কাজের জন্য তাঁর কাছে কোনও আধুনিক সরঞ্জাম ছিল না। মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সম্পূর্ণ খালি হাতে, জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে তিনি সাপ ধরতেন। তবে বর্তমানে নিজের ও সাপের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তিনি আধুনিক ‘স্নেক ক্যাচার’ বা স্টিক ব্যবহার করেন।

    পিন্টু বাবুর পরিবার বলতে বাড়িতে রয়েছেন বয়স্ক মা-বাবা, স্ত্রী এবং দুই মেয়ে। প্রতিদিন এমন চরম ঝুঁকির কাজ করা পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই খুব একটা পছন্দ করেন না। কিন্তু সাধারণ মানুষের বিপদের কথা ভেবে পিন্টু কখনও পিছপা হননি।

    কারও বাড়িতে সাপ ঢুকেছে খবর পেলেই দিন বা রাত, রোদ্দুর বা বৃষ্টি— কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করে তিনি ছুটে যান। অত্যন্ত সাবধানে বিষধর সাপগুলোকে উদ্ধার করে সেগুলিকে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেন। দীর্ঘদিন গাড়ি চালানোর পেশায় থাকলেও বর্তমানে সামান্য চাষবাস করেই তাঁর সংসার চলে।

    শুরু হয়েছে বর্ষাকাল। এই সময়ে গর্তে জল ঢুকে যাওয়ায় সাপের উপদ্রব অনেকটাই বাড়ে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই এখন পিন্টুর ব্যস্ততাও তুঙ্গে। তবে তিনি বনদফতরের কোনও কর্মী নন, তা সত্ত্বেও কেবল বন্যপ্রাণের প্রতি ভালবাসার টানেই এই কাজ করে চলেছেন বছরের পর বছর। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষকে বিপদমুক্ত করছেন, তা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ ও সাহসকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সকলে।

    রঞ্জন চন্দ
  • Link to this news (News18 বাংলা)