• সরকারের হাত ধরে বিনিয়োগ ও উন্নয়নের নতুন দিশা: দেবজিৎ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • রাজ্যে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ খুললেন বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের বাম ও তৃণমূল শাসনের ফলে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প কাঠামো ভেঙে পড়েছিল। একসময় বাংলা বড় বড় শিল্প, জুট মিল, কাগজ কল, ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা এবং উৎপাদন শিল্পের জন্য পরিচিত ছিল। এখন সেগুলির অধিকাংশই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অস্বাস্থ্যকর ট্রেড ইউনিয়ন রাজনীতি, দুর্নীতি এবং ভুল নীতির কারণে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

    দেবজিৎ সরকারের বক্তব্য, অতীতের সেই শিল্পহীন পরিবেশের কারণে বহু বিনিয়োগকারী পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হন। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন শাসনব্যবস্থায় শিল্পের পরিবর্তে সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি, বেআইনি দখলদারি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারই বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল। এর ফলে শিল্পোদ্যোগীদের আস্থা নষ্ট হয়। এর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও ক্রমশ কমে আসে।

    দেবজিৎ বলেন, ‘বর্তমানে রাজ্য সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তর দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ রেখে নতুন শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে।’ দেবজিৎ সরকারের দাবি, মিৎসুবিশি, টাটা গোষ্ঠী, আদানি গোষ্ঠী, ইমামি গোষ্ঠী, অ্যাকসেঞ্চার, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, রোশ গোষ্ঠী, এআই ডেটা সেন্টার-সহ একাধিক দেশি-বিদেশি সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। এর পাশাপাশি ইস্পাত, গার্মেন্টস, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।’ শিল্পের পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

    অতীতের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিরা আইনের ঊর্ধ্বে থাকার মানসিকতা তৈরি করেছিলেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শিল্পের পরিবেশও নষ্ট হয়েছে।

    তাঁর কথায়, ‘বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে।’ বেআইনি দখলদারি, সিন্ডিকেট রাজ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এদিন সাংবাদিক বৈঠকে দেবজিৎ সরকার বিচারব্যবস্থার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনও রকম ছাড় না দেওয়াই উন্নয়নের অন্যতম শর্ত।’ প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, উৎপাদন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে নতুন শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    সবশেষে দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘অতীতের শিল্পহীনতা, দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেট সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গ এখন নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে।’ এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী দিনে রাজ্য ফের দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্যে পরিণত হবে বলেই তিনি আশাবাদী।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)