• তৃতীয় স্বামীর লালসার শিকার ১৪ বছরের মেয়ে! সব জেনেও আড়াল ‘গুণধর’ মায়ের, তারপর…
    প্রতিদিন | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • কিশোরী মেয়েকে লাগাতার ধর্ষণ! অভিযুক্ত সৎ বাবা। সব জেনেও পুরো ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করেন নির্যাতিতার মা! অবশেষে কিশোরীর অভিযোগের পরই অভিযুক্ত সৎ বাবা ও মাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয়। সোমবার পুলিশ ধৃতদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে। বারুইপুরে বালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের আবহে বনগাঁয় কিশোরীকে সৎ বাবার ধর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্য এলাকায়।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে ওই কিশোরের বাবার মৃত্যু হয়েছে। মা তখন কলকাতার বাগুইহাটি এলাকায় থাকতেন। সেখানে তিনি এক যুবককে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে সংসার করার মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে বিহারের এক যুবকের সঙ্গে মায়ের পরিচয় হয়। সেখান থেকে ফোন নম্বর আদান-প্রদান ও পরস্পরের মধ্যে কথাবার্তা চলতে থাকে। এরপরই স্বামীকে ফেলে রেখে ওই কিশোরীর মা তাকে সঙ্গে নিয়েই বিহারের ওই যুবকের কাছে চলে গিয়েছিলেন। বিহারের ওই যুবক এরপর মা ও মেয়েকে নিয়ে দিল্লিতে বসবাস করতে শুরু করেন। কিশোরীর অভিযোগ, মায়ের অনুপস্থিতিতে দিল্লিতে অবাঙালি ওই সৎ বাবা তাকে লাগাতার ধর্ষণ করতে থাকে। কিশোরী ঘটনাটি তার মাকে জানিয়েছিল। কিন্তু মা সব জানার পরেও মেয়ের অভিযোগের কোনও গুরুত্ব দেননি। উল্টে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনাটি চেপে যেতে বলেন।

    সম্প্রতি সৎ বাবা ও মায়ের সঙ্গে ওই কিশোরী দিল্লি থেকে বনগাঁয় মাসির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। মাসির বাড়িতে কয়েকদিন থাকার পর শনিবার তিনজনের দিল্লিতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। ফিরে যাওয়ার সময় মা ও সৎ বাবার সঙ্গে ওই কিশোরী আর যেতে চাইছিল না। তখন মাসির বাড়ির লোকেরা ওই কিশোরীকে মায়ের সঙ্গে ফিরে যাওয়ার কথা বলেন। তখন ওই কিশোরী ভীষণ কান্নাকাটি শুরু করে। অনেক বোঝানোর পর সে মাসি ও মেসোকে সৎ বাবার নির্যাতনের কথা জানিয়ে দেয়। যা শুনে রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে যান মাসি ও মেসো। তাঁরা কিশোরীর সৎ বাবাকে চেপে ধরেন। তখন দিল্লির বাসিন্দা ওই যুবক কিশোরীকে ধর্ষণ করার কথা কবুল করে। এরপরেই রবিবার রাতে বনগাঁ থানায় কিশোরী সৎ বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে। তিনি কিশোরীর মায়ের বিরুদ্ধেও ধর্ষণের ঘটনা প্রশ্রয় দেওয়ার কথা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। অভিযোগের কয়েকঘণ্টার মধ্যেই ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় মা’কেও।
  • Link to this news (প্রতিদিন)