আড়ে-বহরে তো বটেই, জৌলুস ও ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও জাতীয় রূপ নিতে চলেছে তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলা। প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে। ১৮ জুলাই থেকে ২৮ অগস্ট পর্যন্ত ভক্তি ও আরাধনার মিলন কেন্দ্র হয়ে উঠবে তারকেশ্বর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বারের মেলাকে জাতীয় স্তরে উন্নীত করার কথা আগেই ঘোষণা করেছেন। অর্থ বরাদ্দ হয়েছে বাজেটে। শুরু মেলার আয়োজনের সাজসজ্জা।
১) তারকেশ্বর মন্দির থেকে তিন কিলোমিটার দূরে তৈরি হয়েছে সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ। এই প্রাঙ্গণে রাজ্যে ও রাজ্যের বাইরে থেকেও সাধু সন্তরা আসবেন। বঙ্গীয়সন্ত সমাজ এর ডাকে সন্ত সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
২) ১৫ তারিখ থেকে তারকেশ্বর মন্দির সংলগ্ন রাজবাড়ী মাঠে মহারুদ্র যজ্ঞ চলবে পাঁচদিন ধরে। বৈদ্যপুর এলাকায় তারকেশ্বর মন্দিরের আদলে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ।
৩) মঙ্গলবার সকাল দশটায় তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দেবেন সন্ত মহারাজরা। সেখান থেকে কলস যাত্রা করে সাধু সন্ত মহারাজরা এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। ৩০ হাজার মানুষের বসার জায়গা তৈরি করা হয়েছে।
৪) মূল মঞ্চের দুপাশে দুটি করে হ্যাঙ্গার তৈরি করা হয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্য শিবির তৈরি করা হয়েছে।
৫) পুণ্যার্থীদের স্বাগত জানাতে মন্দির সংলগ্ন দুধপুকুর থেকে প্রবেশদ্বার সর্বত্র চলছে আলোর কারসাজি। মন্দির সংলগ্ন দুধপুকুরে করা হয়েছে বিশেষ রাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। আলোর মাধ্যমে সেখানে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ভগবান শিবের বিভিন্ন রূপ।
৬) তারকেশ্বর মন্দিরে প্রবেশের ওয়েলকাম গেটও সেজেছে নতুন রূপে। শেওড়াফুলি-তারকেশ্বর ১২ নম্বর রোডের উপরে অবস্থিত মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার গেরুয়া, সাদা ও সবুজ– জাতীয় পতাকার তিন রঙের আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে। রাত নামলেই গেট থেকে মন্দির পর্যন্ত রাস্তা জুড়ে আলোর রোশনাই। শেওড়াফুলি থেকে মন্দির পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তার দু’পাশে লাগানো হয়েছে চন্দননগরের আলো।
সোমবার মঞ্চ পরিদর্শন করেন হুগলী গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুনওয়ার ভূষণ সিং। প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে মঞ্চের ভিতর এবং বাইরে গোটা এলাকা পরিদর্শন করেন। ছিলেন তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পান-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। বিধায়ক সন্তু পান বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তত্ত্বাবধানে শ্রাবণী মেলা সেজে উঠছে। বঙ্গীয় সন্ত সমাজের ডাকে আগামী কাল থেকে সন্ত সম্মেলন শুরু হচ্ছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সকাল দশটায় তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দেবেন সন্ত মহারাজরা। সেখান থেকে কলস যাত্রা করে সাধু সন্ত মহারাজরা এই সম্মেলনে যোগ দেবেন।’
রিষড়া প্রেম মন্দিরের মহারাজ স্বামী নিরগুনানন্দজি বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বারের শ্রাবণী মেলা বেশি জাঁকজমকপূর্ণ করা হয়েছে। সনাতন ধর্মের তীর্থস্থান বাবা তারকনাথের মন্দির। এ বছর সাধুসন্ত মহারাজদের নিয়ে ধর্ম ধর্ম সম্মেলন করছি তারই উদ্বোধন হবে মঙ্গলবার। সারা বাংলা থেকে আসছে দেড় হাজার সাধুসন্ত। উত্তরবঙ্গ ,বিহার বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধু মহারাজরা আসবেন।’
রিপোর্টিং: সুজয় মুখোপাধ্যায়