• সেবাশ্রয়ে হাঁটুর ব্যথা সারাতে গিয়ে পা হারানোর অভিযোগ, ‘তদন্ত হবে’, মালতির ছেলেকে আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • হাঁটুর ব্যথা সারাতে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে গিয়েছিলেন ৫৯ বছরের মালতি বিশ্বাস। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকদের ওষুধ খেয়ে পা-ই বাদ যায় বলে অভিযোগ। গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে রবীন্দ্র নগর থানায় FIR দায়ের করেছে মালতীর পরিবার। এর মধ্যে সোমবার স্বাস্থ্যভবনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন মালতীর ছেলে সৌম্যদ্বীপ বিশ্বাস। মালতীকে মুখ্যমন্ত্রীর ফান্ড থেকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    এ দিন সকাল ১১টা নাগাদ চিকিৎসার সমস্ত নথিপত্র এবং সেবাশ্রয়ের প্রেসক্রিপশন নিয়ে স্বাস্থ্যভবনে হাজির হন সৌম্যদ্বীপ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় তাঁদের। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মালতি এবং তাঁর পরিবারকে সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কথা হলো। প্রেসক্রিপশন দেখলাম। মডার্ন মেডিসিন কিছুই লেখেনি। মনে হয় কোনও হাতুড়ে লিখেছে। ওষুধের ডোজ়ও ভুল ছিল।’

    গত কয়েক দিনে সেবাশ্রয় ক্যাম্প নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ জমা পড়ছে। সব তদন্ত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তদন্ত হবে। যথাযথ বিচার হবে।’ সেবাশ্রয়ে যাঁরা যেতেন, তাঁদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হতো বলে এ দিন অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘কেন এমন করত জানি না।’ একই সঙ্গে সেবাশ্রয়ে যাঁরা চিকিৎসা করতেন, সেই চিকিৎসকদের সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শারদ্বত বলেন, ‘তদন্ত কমিটি তৈরি করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে সেবাশ্রয়ের রিপোর্ট নেবেন বলেছেন।’

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একহাত নেন শারদ্বত। মালতির উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘অভিষেকের নির্বাচনী লাভের ফসল দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।’ সেবাশ্রয়ের চিকিৎসকদের তথ্য এবং স্বাস্থ্যভবনের তদন্ত রিপোর্ট পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মালতিকে মুখ্যমন্ত্রীর ফান্ড এবং স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে সাহায্য করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, মহেশতলার বাসিন্দা মালতি বিশ্বাস অস্টিওআর্থ্রাইটিসজনিত হাঁটুর ব্যথায় ভুগলেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। পরিবারের অভিযোগ, সেবাশ্রয় ক্যাম্পে ভুল চিকিৎসা ও পরে অস্ত্রোপচারে গাফিলতির জেরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। গত বছরের ২৫ এপ্রিল হাঁটুর অস্ত্রোপচারের এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতির অবনতি হয়। শেষ পর্যন্ত ২৭ মে তাঁর বাঁ পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে বাদ দেন চিকিৎসকরা। এখন ওয়াকার ছাড়া হাঁটাচলা করতে পারেন না তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)