উত্তরপ্রদেশের ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে এক আমেরিকান নাগরিককে গ্রেপ্তার করল এসএসবি। ধৃতের নাম জর্ডন ব্রাউন (৩৬)। তিনি আমেরিকান নৌবাহিনী এবং স্পেশাল ফোর্সের প্রাক্তন সদস্য বলে দাবি। তবে বৈধ নথি ছাড়া ভারত থেকে নেপালে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতের কাছ থেকে ৩১,৪৬০ টাকা নগদ এবং দু’টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, জর্ডন ব্রাউনের বাড়ি ক্যালিফোর্নিয়ায়। বেঙ্গালুরু থেকে সোনৌলি সীমান্ত দিয়ে নেপালে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এসএসবি জওয়ানরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে ধাওয়া করে ব্রাউনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসএসবির সহকারী কমান্ড্যান্ট প্রিয়া যাদব বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পরে ব্রাউনকে সোনৌলি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
জেরায় ব্রাউন জানিয়েছেন, পর্যটক ভিসায় তিনি প্রথমে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন। সেখানে পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। এর পরে সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছন তিনি। সেখান থেকে গত বছরের (২০২৫ সালে) ২ নভেম্বর ভারতে ঢোকেন। তার পর থেকে তিনি গোয়ায় থাকতেন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন ব্রাউন। তবে পুলিশের বক্তব্য, ধৃতের দেওয়া সমস্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ব্রাউনের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট-এর ২১ এবং ২৩ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
জেরায় ব্রাউন দাবি করেছেন, তিনি প্রায় ৭০টি দেশে ঘুরেছেন। বছর তিনেক আগে ইতালিতে থাকার সময়ে উত্তরাখণ্ডের এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছিল। পরে তাঁকে বিয়েও করেন। সেই তরুণী পেশায় যোগ প্রশিক্ষক বলে দাবি ব্রাউনের। তিনি নিজে আমেরিকান নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলেও দাবি। তার পরে স্পেশাল ফোর্সে যোগ দিয়েছিলেন। বছর দু’য়েক আগে অবসর নেন। গোয়ায় থাকার সময়ে নাজ নামে এক নেপালি নাগরিকের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে দেখা করতেই তিনি নেপালে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন।
জর্ডন ব্রাউনকে গ্রেপ্তারির খবর আমেরিকান দূতাবাসকে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, মিজোরাম সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমার থেকে অবৈধ ভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে গত ১৩ মার্চ ম্যাথু ভ্যানডাইক নামে এক আমেরিকান এবং ৬ ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তে জানা যায়, উত্তর-পূর্ব ভারতের সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠনগুলিকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, ভারতে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ এবং ড্রোন-সহ অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহের মতো কর্মকাণ্ডেও জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। তাঁদের সঙ্গে জর্ডন ব্রাউনের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।