রেশন দোকান নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। রেশন বন্টন নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার কানেও। তার পরেই উত্তর ২৪ পরগনার গুমায় ওই রেশন দোকানে আচমকা হানা দিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী। সোমবার ওই অভিযানে গিয়ে একাধিক বেনিয়ম চোখে পড়ে তাঁর। এর পরেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত রেশন ডিলারকে। রেশন নিয়ে দুর্নীতি এবং বেনিয়ম করা হলে অন্য ডিলারদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, গুমার রেশন ডিলার শ্যামল সাহার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এর পরেই সোমবার, খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে সরাসরি অভিযুক্ত রেশন ডিলারের গোডাউনে পৌঁছে যান খাদ্যমন্ত্রী। সেখানে গিয়ে একাধিক বেনিয়ম চোখে পড়ে তাঁর। ক্ষুব্ধ মন্ত্রী ওই রেশন ডিলারকে একের পর এক প্রশ্ন করেন এবং অনিয়মের অভিযোগে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। মন্ত্রীর সামনে অভিযুক্ত ডিলার শ্যামল সাহা কান ধরে ক্ষমা চান বলেও জানা গিয়েছে। তবে তাঁর কথায় কান দেননি খাদ্যমন্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই রেশনের সামগ্রী গোডাউনে এসে পৌঁছলেও তা সাধারণ উপভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হতো না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রাহকদের বায়োমেট্রিক (হাতের ছাপ) সংগ্রহ করার পরে রেশনের সামগ্রী আসেনি বলে জানাতেন ওই ডিলার। লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময়ে তাঁরা খালি হাতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হতেন বলেও জানিয়েছেন। সোমবার, খাদ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।
জানা গিয়েছে, এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই ওই ডিলারের গুদাম পরিদর্শনে যান খাদ্যমন্ত্রী। সেখানে বিপুল পরিমাণ রেশনের বস্তা মজুত দেখতে পেয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কান ধরে ক্ষমা চেয়ে আগামী দিনে এমন কাজ করবেন না বলে জানান ওই ডিলার। তবে ওই ডিলার যে অন্যায় করেছেন তার জন্য তাঁকে শাস্তি পেতেই হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন খাদ্যমন্ত্রী।
খাদ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই ধরনের অনিয়ম চালানো হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার তা বরদাস্ত করবে না। ওই অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে রেশন ডিলারের লাইসেন্সও বাতিল করা হবে বলেও জানিয়ে দেন তিনি। এর পরেই ওই রেশন ডিলারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অন্য ডিলারদের বিরুদ্ধেও একই রকম পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী।