স্কুল চত্বরের পাশেই জঙ্গল। নেই কোনও সীমানা প্রাচীর। স্কুলের ঘরেই থাকে মিড-ডে মিলের চাল। আর তারই গন্ধ পেয়ে প্রায় প্রতিদিনই স্কুলে ঢুকে পড়ছে বুনো হাতি। খাবারের সন্ধানে এসে স্কুলের দরজা এবং জানালাও ভাঙছে হাতি। চরম আতঙ্কে স্কুলের পড়ুয়া থেকে শুরু করে শিক্ষক এবং অভিভাবকরাও। আতঙ্কের মধ্যেই ক্লাস করতে হচ্ছে তাঁদের। এই সমস্যা বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড় থানার মারখা গ্রামে। সমস্যার হাত থেকে রেহাই পেতে বন দপ্তরের দ্বারস্থও হয়েছেন শিক্ষকরা।
মারখা গ্রামে একই ক্যাম্পাসে আছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, প্রাইমারি স্কুল ও জুনিয়র হাইস্কুল। তিনটি শিক্ষা কেন্দ্রের পড়ুয়াদের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে জমা থাকে মিড ডে মিলের চাল। আর তার টানেই সেখানে ঢুকে পড়ছে বুনো হাতি। শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলাতেও জঙ্গল ছেড়ে স্কুল চত্বরে চলে আসছে একটি দাঁতাল হাতি বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। ফলে যে কোনও সময়েই বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
জানা গিয়েছে, স্কুলে রাখা খাবারের টানেই গত শনিবার রাতে প্রাইমারি স্কুলের প্রধান দরজা ও জানালা ভাঙে হাতি। একই ঘটনা ঘটে রবিবার রাতেও। এ বার আক্রমণের লক্ষ্য ছিল জুনিয়র হাইস্কুল।
এই ঘটনায় চরম আতঙ্কিত মারখা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুলালচন্দ্র মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘একই ক্যাম্পাসে তিনটি শিক্ষাকেন্দ্র আছে। পাশেই জঙ্গল থাকলেও কোনও সীমানা পাঁচিল নেই। এর ফলে শুধু রাতে নয়, দিনেও হাতি ঢুকে পড়ে। চরম সমস্যা এবং আতঙ্কে আছি আমরা প্রত্যেকেই।’ বিষয়টি বনদপ্তরকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
একই কথা মারখা জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষক আদিত্য মাঝি-রও। তিনি জানান, স্কুলের পাশের জঙ্গলে আছে একটি দলছুট দাঁতাল। ওই হাতিটিই স্কুলের গ্রিল ভেঙে মিড ডে মিলের চাল খেয়ে গিয়েছে। স্কুলের অন্যান্য জিনিসও তছনছ করে দিয়েছে হাতিটি।
সব কিছু দেখে আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারাও। তাঁদের সন্তানদের এখন স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। অবিলম্বে বন দপ্তরের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন তাঁরা।
এই নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় বন দপ্তর এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা।