• পাহাড়ের মাথায় জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রে রাত্রিবাস বন্ধ করল রাজ্য সরকার, কারণ কী?
    আজ তক | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • Lepchakha Night Halt Stopped: ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ার জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বক্সা পাহাড়ের ছোট্ট গ্রাম লেপচাখা। পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই মায়াবী গ্রামে রাত্রিযাপন করতে ভালোবাসেন বহু প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটক। কিন্তু ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এবার মন খারাপের খবর নিয়ে এল বন দপ্তর। জানা গিয়েছে লেপচাখায় পর্যটকদের রাত কাটানোর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। এই বিষয়ে বন দপ্তরের অন্দরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে নতুন নিয়ম চালু হলেও পর্যটকরা দিনের বেলায় অনায়াসে সেখানে ঘুরে আসতে পারবেন। নিয়ম অনুযায়ী সারাদিন পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করে বিকেলের মধ্যেই পর্যটকদের সমতলে বা পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসতে হবে।

    বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের এক শীর্ষ বনকর্তা জানিয়েছেন লেপচাখা গ্রামটি মূলত বক্সা টাইগার রিজার্ভের অতি সংবেদনশীল কোর এলাকার মধ্যে পড়ে। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবিউনাল বা জাতীয় পরিবেশ আদালতের গাইডলাইন অনুযায়ী কোনো সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কোর এলাকায় পর্যটকদের রাতে থাকার নিয়ম নেই। এতদিন পর সেই পরিবেশ বিধিই এবার অক্ষরে অক্ষরে কার্যকর করতে চলেছে বন বিভাগ। আসলে বক্সা অরণ্যে খুব শীঘ্রই নতুন করে বাঘ ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। তাই বন্যপ্রাণের পাশাপাশি পর্যটকদের সুরক্ষার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বাঘ ছাড়ার আগে লেপচাখার স্থানীয় বাসিন্দাদের এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে এবং তারপরই একটি আনুষ্ঠানিক সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি চালানো হবে যাতে এই নির্দেশ কেউ অমান্য করতে না পারে। শুধু লেপচাখাই নয় বন দপ্তর সূত্রে খবর জয়ন্তী গ্রামটি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর সেখানেও পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ওপর একই রকম কড়াকড়ি শুরু হবে এবং কাউকে রাতে থাকতে দেওয়া হবে না।

    বন দফরের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের জেরে আগামী দিনে স্থানীয় স্তরে বড়সড় বিরোধ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ লেপচাখা গ্রামের একটি বিশাল অংশের মানুষের রুটি রুজি জড়িয়ে রয়েছে এই পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে। দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা রাতে হোমস্টেগুলিতে থাকলে তবেই স্থানীয় পাহাড়বাসীদের আয়ের পথ সচল থাকে। এই প্রসঙ্গে লেপচাখার বাসিন্দা তথা এক হোমস্টে মালিক পিনছো ডুকপা জানিয়েছেন বন দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো তাঁদের অফিশিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। তিনি মনে করেন পাহাড়ের হোমস্টে বন্ধ হওয়ার কোনো অসংগত কারণ নেই। ভবিষ্যতে বন দপ্তর কোনো নির্দেশিকা জারি করলে তাঁরা সকলে মিলে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

    উল্লেখ্য সাম্প্রতিক অতীতেও হোমস্টে নির্মাণকে কেন্দ্র করে লেপচাখার বাসিন্দাদের সঙ্গে বন দপ্তরের একপ্রস্থ সংঘাত তৈরি হয়েছিল। বনাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষার্থে পাহাড়ে যেকোনো ধরনের কংক্রিটের পাকা নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে বন বিভাগ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গত শুক্রবারও বনকর্মীরা গ্রামে গিয়ে টহল দিয়েছেন এবং গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বন দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশের ধারণা লেপচাখায় একদিকে যেমন বেআইনিভাবে কংক্রিটের বহুতল বাড়ছে তেমনই আবার বাইরের অনেক লোক এসে সেখানে ব্যবসায়িক স্বার্থে থিতু হচ্ছে। তাই পর্যটকদের রাত কাটানো পাকাপাকিভাবে বন্ধ করার আগে থেকেই এই সমস্ত বহিরাগতদের আনাগোনা এবং বেআইনি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণের কাজে কোমর বেঁধে নেমেছে বন দপ্তর।

    English URL Structure

    Trending English SEO Keywords
    buxa tiger reserve latest news, lepchakha village night stay ban, alipurduar tourism forest department restrictions, buxa hills homestay controversy, national green tribunal core area guidelines, doars travel update west bengal, jayanti village relocation update
  • Link to this news (আজ তক)