এই সময়, বর্ধমান: ওরা তিন জনই চন্দন কুমার! তিন জনই আবার এটিএম মেশিনে কারসাজি করে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করতে গিয়ে ধরা পড়েছে পুলিশের হাতে!
এমনই অভিনব ঘটনা ঘটেছে বর্ধমান শহরে। তিন চন্দনের প্রথমজনের বাড়ি বিহারের জামুইয়ে, দ্বিতীয় জন গয়া ফতেপুর এবং তৃতীয় জন খেজুরি আত্রি থানা এলাকার বাসিন্দা। ধৃত তিন চন্দনকে সোমবার তোলা হয় বর্ধমান আদালতে। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জেনেছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েক জন জড়িয়ে রয়েছে।
কী ভাবে তিন চন্দন এটিএম থেকে টাকা আত্মসাৎ করত? পুলিশ সূত্রে খবর, এরা বিভিন্ন এটিঁএম মেশিনে টাকা বের হওয়ার জায়গায় অথবা এটিএম কার্ড ঢোকানোর জায়গায় কারসাজি করে রাখত আগে থেকে। এটিএমের ভিতরে কাস্টমার কেয়ারের নম্বর হিসেবে একটি নম্বর আগে থেকেই সাঁটিয়ে রাখত তারা। কোনও গ্রাহকের টাকা বের না–হলে সাহায্যের নামে এই তিন চন্দন গ্রাহককে বলত কাস্টমার কেয়ারে ফোন করার জন্য। সেখানে ফোন করা হলে গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের মতো করে এটিএম কার্ডের শেষ চারটি নম্বর জানানোর নির্দেশ দেওয়া হতো। তা বলার পরে মোবাইলে যে ওটিপি নম্বর আসত, তা–ও বলার নির্দেশ আসত। গ্রাহককে আশ্বস্ত করা হতো, ওই ওটিপি নম্বর বললে এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে কার্ড ফের চালু হয়ে যাবে। এই সময়ের মধ্যে অন্য জায়গা থেকে তিন চন্দন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিত।
বর্ধমান চৌরঙ্গি ক্লাবের বাসিন্দা শর্মিষ্ঠা চট্টোপাধ্যায় বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি বাড়ির কাছের একটি এটিএমে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কার্ড আটকে যায় মেশিনের মধ্যে। তা কোনও ভাবে বের না–করতে পেরে চিন্তায় পড়ে যান। সেই সময়ে পিছনে থাকা এক অপরিচিত ব্যক্তি তাঁকে সাহায্য করার নামে ভিতরে থাকা কাস্টমার কেয়ারের নম্বরে ফোন করতে বলেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরে তিনি এটিএম কার্ড নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। কিন্তু তার পরেই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ হাজার টাকা তোলার মেসেজ আসে মোবাইল ফোনে।
প্রতারিত হয়েছেন, তা বুঝতে পেরেই শর্মিষ্ঠা থানায় যোগাযোগ করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে এটিএমের সিসিটিভি ক্যামেরার ছবি দেখে তদন্ত শুরু করে। নবাবহাট এলাকায় স্টেট ব্যাঙ্কের একটি এটিএম–এর ভিতরে ওই ব্যক্তিকে দেখে পুলিশ তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে আটক হয় বাকি দুই চন্দন। এই দলটি উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, মাথাভাঙা, মালদা–সহ কলকাতার বেশ কয়েকটি এটিএমে এই ভাবে টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জেনেছে পুলিশ।
এ দিন আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে ধৃতদের কাছে এটিএম থেকে কী ভাবে টাকা তুলত, তা জানতে চাওয়ায় তিন চন্দন হাসাহাসি করতে থাকে।