এই সময়, ময়ূরেশ্বর: তৃণমূল কর্মীদের একাংশের আশা ছিল, এ বারে তাঁদের 'কেষ্টদা' বীরভূম জেলায় মমতাপন্থী তৃণমূলের সর্বেসর্বা হয়ে উঠবেন। তাঁর নেতৃত্বে ২১ জুলাই কলকাতা সমাবেশে ঝেটিয়ে যোগ দিয়ে কাজল শেখ ও তাঁর দলবলকে দেখিয়ে দেবেন।
সে আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন স্বয়ং কেষ্ট ওরফে অনুব্রত মণ্ডল নিজেই। কাজলের মতো তিনিও যোগ দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরে। ধন্দে পড়েছেন তাঁর অনুগামীরা। এতদিন যাঁদের মনে মনে বিরোধী বলে জেনে এসেছে, সেই কাজল-অনুগামীদের সঙ্গে একই সমাবেশে যোগ দিতে সায় নেই তাঁদের অনেকেরই। তাঁদের অনেকেই বলছেন, 'আমরা কেষ্টদার অনুগামী হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে দল করতে এসেছিলাম। কেষ্টদা ঋতব্রতদের শিবিরে যেতেই পারেন, আমরা গেলে মমতার সমাবেশে যাব। না হলে যাবই না।'
বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি, হাসনের তৃণমূল বিধায়ক ফায়েজুল শেখ ওরফে কাজল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দেওয়ায় খুশি ছিলেন অনুব্রতর ঘনিষ্ঠরা। কেষ্টর নেতৃত্বে ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আয়োজিত শহিদ সমাবেশে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন তাঁরা। এখন অনুব্রতও ঋতব্রত-শিবিরে যোগ দিয়ে বিদ্রোহী তৃণমূলের জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। ফলে সমাবেশে যাওয়া নিয়েও ধন্দে তাঁর অনুগামীরা। অনুব্রত বলছেন, 'যাঁরা জেলা সভাপতি হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করেছেন, আমি কর্মীদের নিয়ে তাঁদের সমাবেশে যোগ দিতে কলকাতা যাব। কর্মীদের মধ্যে কোনও বিভ্রান্তি নেই। সব সংবাদ মাধ্যমের সৃষ্টি।'
অন্য দিকে, কাজলের অনুগামীরাও ভেবেছিলেন অনুব্রত-অনুগামীদের টেক্কা দিতে ঋতব্রত শিবিরের সমাবেশে যোগ দেবেন। এখন কেষ্ট-কাজল এক শিবিরে যোগ দেওয়ায় ধন্দে পড়েছেন তাঁরাও। কাজল অনুগামীদের একাংশও বলছেন, 'আমে-দুধে মিশে গেলে আমাদের তো আঁটি হয়ে গড়াগড়ি খেতে হবে। এখন কী করব, ভেবে পাচ্ছি না।' আর এ বিষয়ে কাজল বলেন, 'ওটা (২১ জুলাই সমাবেশে যাওয়া) কর্মীরা ঠিক করুক। কারণ এখন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। উনি বলবেন, কর্মীরা কোথায় যাবেন।'
তৃণমূলের সাঁইথিয়া ব্লক সভাপতি মহম্মদ ইউনুস বলছেন, 'নেতাদের শিবির পরিবর্তনের ফলে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের উচিত সব ভুলে কর্মীদের বিভ্রান্তি দূর করতে দলনেত্রীর পাশে দাঁড়ানো।' দলের প্রাক্তন জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, 'কর্মীদের কী বলব? কলকাতার সমাবেশে যাওয়া নিয়ে আমরা নিজেরাই বিভ্রান্ত।' বিজেপির সাংগঠনিক জেলা (বোলপুর) সহ-সভাপতি বিনয় ঘোষের কথায়, 'তৃণমূল নেতারা বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িত। পিঠ বাঁচাতে বিজেপির ঘনিষ্ঠ হতে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ছেড়ে অন্য শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। তবে তা নিয়ে বিজেপির মাথাব্যথা নেই। শিবির বদলালেও কেউ পার পাবেন না।'