• টাটার সঙ্গে চলছে কথা, টাকা দেওয়া হবে, নাকি জমি?
    এই সময় | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • শমীক ঘোষ

    টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা পর্ব বা আপস-আলোচনা চলছে বলে কলকাতা হাইকোর্টে জানালেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র। সোমবার বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের আদালতে টাটা গোষ্ঠীর আইনজীবী সুদীপ্ত সরকারের উপস্থিতিতেই এ কথা জানান রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল। বিচারপতি রায় জানিয়েছেন, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৫ অগস্ট। রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, টাটা গোষ্ঠীর বকেয়ার সুদ-সমেত ৮৫০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হবে নাকি রাজ্যের অন্যত্র টাটা গোষ্ঠীকে শিল্প গড়ার জন্য জমি দেওয়া হবে, সেই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

    সিঙ্গুরে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য টাটাদের সুদে-আসলে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা মেটানোর যে নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল, সেই নির্দেশের উপরে গত ৭ মে আট সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ জারি করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারকে তাদের ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার পরেই টাকা ফেরানোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের আদালত।

    ২০২৩ সালে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের পরেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সঙ্গে টাটাদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে দাবি করেছিল, তাঁর রায় পক্ষপাতদুষ্ট। হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পরেই রাজ্য যায় সুপ্রিম কোর্টে।

    শীর্ষ আদালতও হাইকোর্টের বক্তব্যকে সমর্থন করে রাজ্যের আবেদন খারিজ করে। মামলা আবার হাইকোর্টেই ফেরত পাঠানো হয়। সেই মামলায় আগেই শুনানি শেষ হয়ে গিয়েছিল। সদ্য নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। ভোটে জিতে সরকার গড়েছে বিজেপি। ভোটের রেজ়াল্ট বেরোনোর পরে ৭ মে সেই মামলায় হাইকোর্ট ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে আট সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।

    সিঙ্গুরে কারখানা না-হওয়ায় টাটা গোষ্ঠীকে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর রাজ্যকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে একটি বিবৃতিও জারি করে টাটা গোষ্ঠী। সেখানে তারা জানায়, ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সিঙ্গুরে অটোমোবাইল কারখানা মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। সর্বসম্মত ভাবে ট্রাইব্যুনাল, টাটা মোটরসকে ৭৬৫.৭৮ কোটি টাকা দিতে বলেছে। সেই সঙ্গে, ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুরো ক্ষতিপূরণ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ১১ শতাংশ হারে সুদ দিতে বলা হয়।

  • Link to this news (এই সময়)