ভরা বর্ষায় সবুজের কোলে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে? মনটা কি পাহাড় পাহাড় করছে? তা হলে দু’টো দিনের ছুটিতে বেরিয়ে পড়ুন ওডিশার অফবিট জেলা মালকানগিরি (Malkangiri)। কলকাতা থেকে খুব বেশি দূর নয়। তাই উইকএন্ড ট্রিপের জন্য একেবারে আদর্শ। ভুবনেশ্বর, পুরী বা কোরাপুটের মতো এখনও তেমন জনপ্রিয় হয়নি মালকানগিরি। তাই এখানে পর্যটকদের ভিড়ও তুলনামূলক কম। নিরিবিলিতে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে চাইলে এর চেয়ে ভালো জায়গা খুব কমই আছে।
কী কী দেখবেন?
মালকানগিরির আসল আকর্ষণ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। চারদিকে ঘন অরণ্য। পাহাড়ি উপত্যকা। ছোট-বড় ঝর্না। বর্ষায় সবুজে মোড়া এই এলাকা যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। এখানে ঘুরে দেখতে পারেন সিমলিপালের সীতাকুণ্ড। যেতে পারেন সতীবালা জলপ্রপাত। রয়েছে আরও ছোট ছোট পাহাড়ি ঝরনা, যা বর্ষার সময় সবচেয়ে সুন্দর রূপে ধরা দেয়। মালকানগিরির অন্যতম আকর্ষণ হলো বালিমেলা জলাধার। বিশাল নীল জলরাশি। চারদিকে পাহাড়। বোটিং করার সুবিধাও রয়েছে সেখানে। সময় থাকলে ঘুরে দেখতে পারেন সাবেরি ও সিলেরু নদী। আর বিকেলের সূর্যাস্ত দেখতে একেবারেই ভুলবেন না।
আরও অফবিট অ্যাডভেঞ্চার চাইলে চলে যেতে পারেন আম্বাপানি গুহা ও জলপ্রপাত। দেখতে পারেন চিত্রকোন্ডা। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এই জায়গাগুলি একেবারে স্বর্গ।
শুধু প্রকৃতি নয় গাদাবা, বন্ডা এবং কন্ধ-সহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন মালকানগিরিতে। প্রকৃতি, পাহাড়, নদী আর নির্জনতার মাঝে ২ থেকে ৪ দিনের ছুটি কাটাতে চাইলে মালকানগিরি হতে পারে দুর্দান্ত একটি গন্তব্য।
কী ভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে ট্রেনে মালকানগিরি পৌঁছনোর দু’টি পথ রয়েছে। প্রথম পথ, হীরাকুণ্ড এক্সপ্রেস ধরে ভুবনেশ্বর পৌঁছন। সেখান থেকে বাস বা গাড়িতে মালকানগিরি যেতে পারবেন। দ্বিতীয় পথ, হাওড়া থেকে হাওড়া-বিশাখাপত্তনম রুটের ট্রেনে বিজয়নগরম নামুন। তার পর বাস বা গাড়িতে সহজেই পৌঁছে যান মালকানগিরি।