• ছ’জনকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্তের দেহ মিলল মাঠের ধারে, ভিডিয়ো রেকর্ডিংয়ে কী বার্তা দিতে চেয়েছিলেন রাজকুমার?
    এই সময় | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • নাবালিকাকে ধর্ষণের করার অভিযোগে জেলে বন্দি ছিলেন। জামিনে মুক্তি পেয়ে জেলের বাইরে বেরিয়েই খুন করেছিলেন সেই নাবালিকা এবং তাঁর মা ও দিদিমাকে। তার পরে নিজের গ্রামে এসে স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও খুন করেছিলেন। এ বার সেই পি রাজকুমারের মৃতদেহ উদ্ধার করল পুলিশ। সোমবার তেলঙ্গানার রঙ্গারেড্ডি জেলায় একটি মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রাজকুমারের দেহ।

    তেলেঙ্গানা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ১৬ মে পকসো আইনে রাজকুমারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ। শুক্রবার জামিনে মুক্তি পান তিনি। তার পরেই যান নিজের গ্রাম শাবাদে। সেখানে দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন তাঁর স্ত্রী। অভিযোগ, প্রথমে স্ত্রী পার্বতী সরিতা (৩০) এবং তাঁদের চার বছর ও ১৮ মাস বয়সি দুই ছেলেকে খুন করেন রাজকুমার। এর পরে সেখান থেকে ৬ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে যান তিনি। সেখানেই মা ও দিদিমার সঙ্গে থাকত নির্যাতিতা কিশোরী। অভিযোগ, তাঁদের বাড়িতে ঢুকে প্রথমে ওই কিশোরীকে খুন করেন রাজকুমার। তার পরে তার মা ও দিদিমাকেও হত্যা করেন বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, ৬ জনকে খুনের পরে নিজের বাবাকে ফোন করে পুরো ঘটনার কথা বিস্তারিত জানান রাজকুমার। তার পরে সেখান থেকে উধাও হয়ে যান।

    এই ঘটনার পরে থেকেই রাজকুমারের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। ১২টি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে রাজকুমারকে খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পুলিশের তরফে রাজকুমারের খোঁজ দেওয়ার জন্য ২ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবার দুপুর তিনটে নাগাদ রঙ্গরেড্ডির পেঞ্জারলা গ্রামের বাসিন্দারা গ্রামের বাইরে একটি মাঠের ধারে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। তাঁরাই পুলিশ খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। দেহের গায়ের পোশাক দেখে তাঁকে শনাক্ত করে পুলিশ। খবর দেওয়া হয় পরিবারকেও।

    পুলিশ জানিয়েছে, রাজকুমারের পকেট থেকে একটি মোবাইল ফোন, বাসের টিকিট এবং নগদ ১,২৬০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়াও দেহের পাশ থেকে একটি কীটনাশকের বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, ওই কীটনাশক খেয়েই আত্মহত্যা করেছেন রাজকুমার। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

    রাজকুমারের পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনে একটি ভিডিয়ো ফুটেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২ মিনিট ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়ো ১০ জুলাই তারিখ রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই ভিডিয়োয় নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারকে আর্থিক প্রতারণার জন্য দায়ি করেছেন রাজকুমার। ভিডিয়োতে তিনি বলেছেন, নাবালিকার পরিবারের জন্য তাঁর অনেক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তাঁর চাষের জমিও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভিডিয়োর শেষে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে যে, তিনি বিধ্বস্ত। নিজের জীবন শেষ করে দিতে চান তিনি।

    পুলিশ জানিয়েছে, রাজকুমার অনলাইনে জুয়া খেলতেন। জুয়া খেলার জন্য ১৬টি সিমকার্ড এবং একাধিক মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন রাজকুমার। বাজারে তাঁর প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি ঋণ ছিল বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। নিজের চাষের জমি বিক্রি করে সেই ঋণ মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন রাজকুমার। পুলিশের আরও দাবি, এর আগে অক্টোবর মাসেও কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন রাজকুমার। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে রাজকুমারের আর্থিক ক্ষতির কোনও সম্পর্ক আছে কি না, ভিডিয়ো ফুটেজে রাজকুমারের করা দাবিগুলি আদৌ সত্যি কি না, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)