• ‘বিশেষ পরিস্থিতির’ জন্যই টিকিট সুখেন্দুদের, ব্যাখ্যা শমীকের
    এই সময় | ১৪ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক— তিন জনের বিজেপিতে যোগদান এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পদ্মের রাজ্যসভার টিকিট পেয়ে যাওয়া নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে বিধানসভায় এই তিন জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

    পদ্ম–প্রতীকে তাঁরা যে ফের রাজ্যসভার সদস্য হচ্ছেন, তা মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু দু’মাস আগেও জোড়াফুলের সাংসদ থাকা এই তিন জনকে রাতারাতি বিজেপিতে যোগদান করিয়ে রাজ্যসভার টিকিট দেওয়া, বিশেষ করে এঁদের মধ্যে প্রকাশকে নিয়ে উত্তরবঙ্গের একাধিক বিজেপি নেতা–মন্ত্রী গত কয়েক দিনে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন। গেরুয়া শিবিরে কি যোগ্য কেউ ছিলেন না— এই প্রশ্নও উঠেছে। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পাশাপাশি সিপিএম এবং কংগ্রেসও সুখেন্দুদের ফুল–বদল নিয়ে গেরুয়া শিবিরকে বিঁধেছে। এই পরিস্থিতিতে শমীকের ব্যাখ্যা, ‘বিশেষ পরিস্থিতির’ কারণে যে সুখেন্দু–সুস্মিতা–প্রকাশকে দলে নিয়ে টিকিট দিতে হয়েছে, তা বিজেপির পুরোনো নেতা–কর্মীরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন।

    তিন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরে বিধানসভার লবিতে শমীক বলেন, ‘বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না। বিশেষ পরিস্থিতিতে অনেক ঘটনা ঘটে।...যাঁরা রাজনীতি করেন, দীর্ঘদিন বিজেপি করেছেন, আশা করব, তাঁরা বিষয়টি বুঝেছেন। কিছু লোক উস্কে দিচ্ছেন— গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তাঁদের এই অধিকার রয়েছে। তাঁরা আমাদের কর্মী নন।’ তাঁর সংযোজন, ‘একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, নেতার আগে দল, দলের আগে দেশ।’

    ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে যাঁরা সমর্থন করেছেন, তাঁদের কেউ কেউ ‘হতাশ’ হলেও সেই হতাশা যাতে মাত্রা না–ছাড়ায়, তার দিকে দল নজর রাখবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন শমীক। বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘নতুন বিজেপি–প্রেমী তৈরি হয়েছেন। নতুন সরকার এসেছে, এটা হওয়া স্বাভাবিক। এঁদের কিছু প্রত্যাশা রয়েছে। যে কোনও প্রত্যাশার মধ্যে হতাশাও থাকে। এটা যে কোনও সময়ে বাইরে আসতে পারে। এটা যাতে না হয়, তার জন্য দল ও সরকার যত্নবান রয়েছে। কিছু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের কথা বলছেন। ওঁদের আবেগ আমাদের বুঝতে হবে, তাঁদেরও পরিস্থিতি বুঝতে হবে।’

    শমীক এই ব্যাখ্যা দিলেও প্রকাশদের টিকিট দেওয়া নিয়ে যাঁরা প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন, তাঁদের অনেকেই বিজেপির পুরোনো মুখ বলে গেরুয়া শিবিরের নেতাদের একাংশের পর্যবেক্ষণ। সুখেন্দুদের গেরুয়া শিবিরে নেওয়া ‘ব্যতিক্রম’ বলে মুরলীধর সেন লেন ব্যাখ্যা দিলেও তৃণমূলের কালীঘাট শিবির বিজেপি নেতৃত্বকে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে। এই শিবিরের তরফে সাংসদ মহুয়া মৈত্র দিল্লিতে শমীকের উদ্দেশে বলেছেন, ‘সুকুমারের রায়ের কবিতায় বলি, দাদা গো দেখছি ভেবে অনেক দূর, এই দুনিয়ায় সকল ভালো। আসল ভালো, নকল ভালো, সস্তা ভালো, দামিও ভালো, শিমুল তুলো ধুনতে ভালো, ঠান্ডা জলে নাইতে ভালো। কিন্তু সবার চাইতে ভালো পাউরুটি আর ঝোলা গুড়। কোন পাউরুটি আর ঝোলা গুড়ের জন্য এঁরা (সুখেন্দুরা) ভালো হলেন, বাংলার মানুষ বুঝতে পারছেন।’

    বিধানসভায় মনোনয়ন দাখিল করতে এসে সুখেন্দু ও প্রকাশ বাড়তি শব্দ খরচ না–করলেও সুস্মিতা ফের যুক্তি দিয়েছেন, গত ৪ মে সরকার বদল না–হলে তৃণমূলের যে এত দুর্নীতি রয়েছে, তা তিনি জানতে পারতেন না। এই দুর্নীতি দেখেই তিনি শিবির বদল করেছেন।

    সুস্মিতার কথায়, ‘আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে, তাঁর হাওয়াই চটি ও টালির বাড়ি দেখে তৃণমূলে এসেছিলাম। ৪ মের পরে হেলিকপ্টার, প্লেন— কত কী রয়েছে, জানা যাচ্ছে। কোনও দল ক্ষমতায় থাকলে তথ্য বেরোয় না।’ যদিও বিজেপির একাধিক নেতা মনে করছেন, বিভিন্ন দল থেকে নেতারা গেরুয়া শিবিরে আসার ফলেই দল বড় হয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘তৃণমূলের প্রাক্তনীই এখন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। দলের সংবিধানে লেখা নেই, কাউকে নেওয়া যাবে না। বিভিন্ন দলের যোগ্য লোকদের নিয়ে এসে বিজেপি বেড়েছে। ওঁরা (সুখেন্দু) বিজেপির বেঞ্চে বসবেন, এ টুকুই পার্থক্য রয়েছে। আমাদের রাজ্যসভায় শক্তি বাড়ানো দরকার। যাঁরা এনডিএতে আসতে চাইছেন, স্বাগত জানাচ্ছি।’

  • Link to this news (এই সময়)